চতুর্থ অধ্যায় : আখলাক
সৃজনশীল প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ফরহাদ সাহেব মনে করেন, কন্যাসন্তানকে অপছন্দ করা খুবই নিন্দনীয় কাজ। তিনি আরও মনে করেন, পিতার চেয়ে মায়ের অধিকারই বেশি। তার ভাই শাহিনের মনমানসিকতা ভালো নয়। তার গ্রামের মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া একটি ছেলের কথা মনে পড়লেই তিনি দারুণ কষ্ট অনুভব করেন এবং কামনা করেন, ছেলেটি যেন বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যায়।
ক. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ কী?
খ. ‘চরিত্র মানুষের ভূষণ’বুঝিয়ে লেখো।
গ. ফরহাদ সাহেবের চিন্তায় কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শাহিন একজন পরশ্রীকাতর ব্যক্তিমন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর
ক. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘সবর’।
খ. মানুষের জীবনের ভূষণ বা অলংকার হলো চরিত্র।
উত্তম চরিত্র মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এর মাধ্যমেই মানুষ মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত হয়। চরিত্রবলেই মানুষ সর্বত্র সমাদৃত হয়। ভালো চরিত্রের অধিকারীকে মানুষ অধিক ভালোবাসে। সে আল্লাহরও ভালোবাসা অর্জন করতে পারে। অর্থাৎ জীবনকে সুন্দর সফল করার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো উত্তম চরিত্র।
গ. ফরহাদ সাহেবের চিন্তায় নারীর মর্যাদা বা সম্মানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
ইসলামে পুরুষ ও নারীর সমমর্যাদা স্বীকৃত। মা, কন্যা, বোন, স্ত্রী প্রভৃতি হিসেবে সমাজে নারীদের যে বিশেষ অধিকার রয়েছে তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেই নারীর মর্যাদা সমুন্নত হয়। ফরহাদ সাহেবের ধারণায় এ বিষয়টির সমর্থন পাওয়া যায়।
ফরহাদ সাহেব মনে করেন, কন্যাসন্তানকে অপছন্দ করা ঠিক নয়। তার মতে, পিতার চেয়ে মায়ের অধিকারই বেশি। কোরআন মজিদে স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের ভূষণ বলা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে কন্যাসন্তানকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামে স্বামীর সংসারে স্ত্রীকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের ভূষণ আর তোমরা (স্বামীরা) তাদের ভূষণ।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)। নবী করিম (সা.) তার একটি হাদিসে পিতা অপেক্ষা মায়ের অধিকার বেশি বলে উল্লেখ করেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ (নাসায়ি)
সম্পত্তি লাভের বেলায়ও ইসলাম নারীকে পিতা ও স্বামীর উভয়ের সম্পত্তির অধিকারী করেছে। প্রয়োজনীয় বিদ্যার্জন এবং অর্থ উপার্জনে ইসলাম নারীদের অনুমতি দিয়েছে। সুতরাং নারীর মর্যাদা প্রদানে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ফরহাদ সাহেবের মনোভাব সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তার আচরণ ও কাজের মাধ্যমে নারীর প্রতি মর্যাদাবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
ঘ. শাহিন সাহেবের মনোভাবে ঈর্ষা প্রকাশিত হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
মানবচরিত্রের একটি নিন্দনীয় স্বভাব হলো ঈর্ষা বা পরশ্রীকাতরতা। এটি একটি মানসিক ব্যাধি। এটি মানুষের মনে শত্রুতা, অহংকার, নেতৃত্বের লোভ প্রভৃতি অসৎ চিন্তার জন্ম দেয়, যা অত্যন্ত খারাপ পরিণাম বয়ে আনে। শাহিন সাহেবের মধ্যেও এ নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্যটি বিদ্যমান।
শাহিন সাহেবের এলাকার একটি ছেলে মেডিকেলে পড়ে। এ ছেলেটির কথা মনে পড়লেই তিনি অন্তরে দারুণ কষ্ট অনুভব করেন। এ ছাড়া ছেলেটি যাতে বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যায় এমনটিই তিনি কামনা করেন। এ বিষয়গুলো পরশ্রীকাতরতাকেই ইঙ্গিত করে। কারণ পরশ্রীকাতরতার অর্থই হলো অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করা। অর্থাৎ কারও ধনদৌলত, সম্মান, ভালো ফল বা উচ্চমর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তার ধ্বংস কামনা করা।
তাই বলা যায়, শাহিন সাহেব এলাকার ছেলেটির প্রতি যে ধারণা ও কামনা পোষণ করেন তা পরশ্রীকাতরতার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি একজন পরশ্রীকাতর ব্যক্তি।
