ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়। ফলে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয় ফলাফল। টাইব্রেকারে নেইমার শট নেওয়ার আগেই হেরে গেছে ব্রাজিল। কেন নেইমারের নাম ব্রাজিলের হয়ে প্রথম চার শট নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল না। ব্রাজিলের পরিকল্পনা কী ছিল। দল হারায় এ নিয়ে শুনতে হচ্ছে সমালোচনাও।
টাইব্রেকারে ব্রাজিলের প্রথম শটটা নেন বদলি নামা তরুণ ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। কিন্তু তার শট আটকে দেন ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ। দ্বিতীয় শটে গোল করেন কাসেমিরো। তৃতীয়টিতে পেদ্রো গোল করেন। ওদিকে ক্রোয়েশিয়ার চারজনই বল জালে জড়ান। কিন্তু সেলেসাওদের হয়ে চতুর্থ শট নিতে আসা পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কিনহোসের শট পোস্টে লাগায় ব্রাজিল হেরে যায় ৪-২ ব্যবধানে। নেইমার আর শট নেওয়ার সুযোগ পাননি।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচে প্রথম কিকটি নেওয়ার দায়িত্ব ব্রাজিল কোচ তিতে কেন ২১ বছর বয়সী রদ্রিগোকে দিলেন? কেন নেইমার প্রথম চারজনের মধ্যে শট নিলেন না? ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিতে জানান, ‘পঞ্চম শটটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অনেক চাপ থাকে। নেইমার সেই চাপ নিতে পারবে। এ জন্য তাকে পঞ্চম শটের জন্য রাখা হয়েছিল।’ যদি পঞ্চম শট পর্যন্ত গড়াত টাইব্রেকার আর সেখানে নেইমার স্কোর করায় ফলে দল জিতত তিনি হতেন নায়ক। তবে সেটি হয়নি। ম্যাচের ১০৫+১ মিনিটে ক্রোয়াটদের ডেডলকটা ভেঙেছিলেন নেইমারই। গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ছুঁয়েছেন পেলেকেও। যদি ক্রোয়েশিয়া গোল শোধ না করত তবে ম্যাচের নায়ক নেইমারই হতেন।
ক্যারিয়ারে ৭৪ বার পেনাল্টিতে শট নিয়ে ১৫টি মিস করেন নেইমার। ব্রাজিল স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে নেইমারই যে পেনাল্টি/টাইব্রেকারে অভিজ্ঞ তা বলাই যায়। কোচ তিতের এমন সিদ্ধান্তের হচ্ছে সমালোচনা। জার্মানির ১৯৯০ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান বলেন, ‘আমরা আগে দেখেছি সেরা পেনাল্টি টেকারই গতিপথটা নির্ধারণ করে দেন। নেইমার আগে শট নিলে ব্রাজিলের বেলায়ও তাই হতো। ক্রোয়েশিয়া অতিরিক্ত সময়ে গোল শোধের পরই ম্যাচের রূপ পাল্টে যায়। সে সময় আপনি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হলে ভয়ে থাকারই কথা। পুরো জাতি চাইবে আপনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। আর তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।’ সাবেক ইংলিশ খেলোয়াড় রিও ফার্দিনান্দ বলেন, ‘সবাই এটাই বলছে কেন আপনার সেরা খেলোয়াড়ের শেষে পেনাল্টি নেওয়া উচিত নয়। নেইমার এখন হয়তো ভাবছেন যদি।’ তিতের সিদ্ধান্ত অবাক করেছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তোলা ক্রোয়েশিয়া কোচ জøাতকো দালিচকেও, ‘আমি কোচ হলে নেইমারকে শুরুতেই পাঠাতাম।’ নেইমার নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে এসেও খালি হাতে ফিরলেন।
