সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো স্বায়ত্তশাসিত, আইন বিভাগীয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সম্মতি নেওয়ার বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২২’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তায় আরও জোর দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী সাবমেরিন কেবলের জন্য যে প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, সেটির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস ও তেল পাইপলাইনে দেওয়ার যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেসবের কাজও তাড়াতাড়ি শেষ করে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে পরিবহন খরচ না লাগে এবং তাড়াতাড়ি গ্যাস ও তেল সরবরাহ করা যায়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দুইতিন বছর ধরেই এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন আরও জোর দিতে এবং আধুনিক উপকরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যাওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রিসভা সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সরকারি কর্মচারী আইনে একটি বিষয় পরিষ্কার ছিল না। আইনে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থনৈতিক বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্বায়ত্তশাসিত, লেজিসলেটিভ বডি যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এদের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরিষ্কার ছিল না। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে হয়। সুতরাং তাদের বিষয়ে অর্থ বিভাগের একটি অথরিটি থাকতে হবে। সংবিধানের ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রের যত ব্যয় আসবে সব একটি অ্যাকাউন্টে আসবে, একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই খরচ হবে। এটাকে আমরা ট্রেজারি বলি। ট্রেজারির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো অর্থ বিভাগ। সুতরাং খরচের ক্ষেত্রে যেন অর্থ বিভাগের এখতিয়ার থাকে। যদি কোনো করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো বেতন-কাঠামো ঠিক করে নেয়, তাহলে তা হবে না। যেকোনো অর্থনৈতিক বিষয়ে অর্থ বিভাগের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নিতে হবে। এ জন্যই আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী আইন হওয়ার আগেও এ বিধান ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগেও এটি বাধ্যতামূলক ছিল, এখন আইনগত ভিত্তি দেওয়া হলো।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বৈত করারোপণ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাবসহ আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
