১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর পরিকল্পিত হত্যাকা-ের পর ঢাকা থেকে সানডে টাইমস-এর বিদেশ প্রতিনিধি নিকোলাস টোমালিন ডেসপাচ পাঠালেন ‘আত্মসমর্পণের আগে’, ১৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ তা প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করছি :
ঢাকায় বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শহরের বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের মধ্যে পঞ্চাশেরও বেশি লোককে গুলি করে হত্যা করেছে। আকস্মিক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এবং নিবিড় পরিকল্পনার আওতায় বাঙালি এলিট নিধনের অংশ হিসেবে এই হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। এটা অবশ্যই কমান্ডিং অফিসার জেনারেল নিয়াজিসহ পাকিস্তান হাইকমান্ডের পূর্ণ জ্ঞাতসারে ঘটেছে। এসব মৃতদেহের আবিষ্কার ঢাকা শহরে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, পাল্টা হত্যাকা- ও দাঙ্গার জন্ম দিতে পারেএমনকি মুক্তিবাহিনীর গেরিলা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যেও সংঘর্ষের সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকার মূল শহরের পাশের রায়েরবাজারে কতগুলো বিচ্ছিন্ন গর্তে নিহত বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। আমি নিজে ৩৫টি গলিত দেহ দেখেছি। আপাতদৃষ্টে মনে হয়, তারা চার-পাঁচ দিন আগে নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা সম্ভবত আরও বেশি হবে। ঢাকায় অপহরণ করা এ ধরনের লোকের সংখ্যা অন্তত ১৫০ হতে পারে। ইউপিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রধান হৃদরোগ চিকিৎসক ফজলে রাব্বী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরী রয়েছেন। ঢাকার মধ্যবিত্ত এলাকা ধানম-ির বাইরে একটি ইটখোলাকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। যদিও কচুরিপানার নীল-সাদা ফুল কর্দমাক্ত জলাশয়ে শোভা পাচ্ছে। স্থানটি লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন।
আজ ঢাকার শত শত মানুষ মাটির বাঁধ দিয়ে হেঁটে হেঁটে এখানে এসেছে, তাদের অনেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে নিরুদ্দিষ্ট স্বজনদের। বিশিষ্টজনদের অপহরণ করে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালেই। পাঞ্জাবি সেনাদের কয়েকটি স্কোয়াড নির্দিষ্ট ঠিকানায় হাজির হয়ে নির্ধারিত পুরুষ ও নারীকে সশস্ত্র প্রহরায় উঠিয়ে নিয়ে এসেছে। তাদের সম্ভবত রায়েরবাজার ইটখোলায় এনে মাটির বাঁধের পাশে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে গুলি করেছে, যাতে তারা হুমড়ি খেয়ে নিচের জলাশয়ে পড়ে যান।
দেহগুলো এখনো সেখানে শায়িত, কাদা ও বালুতে মাখা, গলতে শুরু করেছে। ঢাকার কুকুরগুলো নাটকীয়ভাবে একটি দেহের কঙ্কাল তুলে এনে বাঁধের ওপর ফেলে রেখেছে। এই কাদার মধ্যেই বাঙালি জনতা অদ্ভুতভাবে শক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে না এখানে তারা ক্ষুব্ধ। কিন্তু অন্যত্র তারা ক্ষিপ্ত। এখানে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিড়বিড় করে কথা বলছে, যেন তারা একটি গির্জা দেখতে আসা পর্যটক। একটি জলাশয়ের পাশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ, সেখানেই পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি মৃতদেহের স্তূপ। একজন মুসলমান ব্যক্তি উলের মাফলারে মুখটা ঢেকে চিৎকার করে বিলাপ করছেন। মুয়াজ্জিনের তারস্বরে। আমরা তার নাম জিজ্ঞেস করলাম। বললেন, তিনি আবদুল মালেক, ঢাকার একজন ব্যবসায়ী। সামনের জলাশয়ে তিনি তার তিন ভাইকে শনাক্ত করতে পেরেছেন [বদরুজ্জামান, শাহজাহান ও মুল্লুক জাহান]। তারা পাশাপাশি পড়ে আছেন। তারাও ঢাকার ব্যবসায়ী। তাদের ব্যবসা পারিবারিক। তার আর কোনো ভাই নেই।...
গত মঙ্গলবারের অনেক আগেই পাকিস্তান শেষ হয়ে গেছে। যেসব কর্মকর্তা এই পরিকল্পনা করেছেন, তারাও তা অবশ্যই জানেন। কাজেই হত্যাকা-ের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকেও ধসিয়ে দেওয়া। বহুদিন ধরেই অনুমান করা হচ্ছিল, পাঞ্জাব মরুভূমির রুক্ষ সেনারা বাঙালিদের প্রতি হিংস্র বর্ণবাদী ঘৃণা লালন করে আসছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা বুদ্ধিভিত্তিক ঈর্ষাও লালন করছে, যার প্রকাশ ঘটেছে এই ব্যাপক হত্যাকা-ে। নিকোলাস টোমালিন (৩০ ডিসেম্বর ১৯৩১-১৭ অক্টোবর ১৯৭৩) যখন ঢাকা থেকে বুদ্ধিজীবী নিধনের এ প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন তার বয়স ৩০ বছর। তারপর তিনি আর ২ বছরও বেঁচে থাকতে পারেননি। তিনি গোলান হাইটস রণাঙ্গন থেকে ১৯৭৩-এর আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রতিবেদন পাঠাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দূরপাল্লার মিসাইল আক্রমণে তার মৃত্যু হয়।
এর কিছুকাল আগেই তিনি বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে লিখেছেন :
‘গত ৩০ বছরে পৃথিবী যত দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে, তার মধ্যে ভয়াবহতমটি হচ্ছে পাকিস্তান সংকট। নৈতিকতার প্রশ্নেও এটি সবচেয়ে সরল। পাকিস্তানি জেনারেলরা [সেই খলনায়করা, যারা গত ২৫ মার্চ নিজ দেশবাসীর ওপর সামরিক আক্রমণের আদেশ দিয়েছেন] হিটলার-পরবর্তী যেকোনো সামরিক আগ্রাসনে, স্পষ্টতই সবচেয়ে বড় অন্যায় কাজটি করেছেন। এর শিকার হয়ে ভারতে আগত ৯০ লাখ শরণার্থী, পূর্ব পাকিস্তানে রয়ে যাওয়া সাড়ে ছয় কোটি বাঙালি, আমরা যা ভাবি তারা তার চেয়েও বেশি নিষ্পাপ, তার চেয়েও বেশি যন্ত্রণাক্লিষ্ট এবং সংখ্যায়ও তার চেয়ে বেশি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাইক্লোন, চরম অবিচার, মানুষের ও পৃথিবীজুড়ে সরকারগুলোর উদাসীনতা মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে তা ভিয়েতনাম, বায়াফ্রা কিংবা গত ১৫ বছরে সংঘটিত যেকোনো রক্তাক্ত আফ্রিকান দ্বন্দ্বকে ছাড়িয়ে গেছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ গড়াচ্ছে এবং আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ মরছে, [কেউ বলছে, সপ্তাহে দুই থেকে তিন হাজার] আমাদের বাকি যারা ঘটনাটা ঘটতে দেখছি, আমরা বুঝতে পারছি, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের কী করণীয় তা নির্ধারণ করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমরা শুধুই অসহায়। এই ৯০ লাখ শরণার্থী রাজনৈতিক অবিচারের শিকার হয়েছে। তারপর সাইক্লোন, তারপর যুদ্ধ, তারপর বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা, রোগবালাই [খারাপ যা কিছু হতে পারে তার] সবই তাদের ভুগতে হয়েছে। এখন তারা এমন এক দেশে, যাদের সামর্থ্য নেই তাদের দেখাশোনার; তারপর এসেছে বন্যা আর এখন তার মোকাবিলা করবে প্রচ- শীত সম্ভাবনার। আমি বলেছি, গত ৩০ বছরে পৃথিবী এ ধরনের দুর্যোগের ঘা খায়নি। আমি বলতে পারি এটি এখন এক ধরনের ভয়াবহ মহাপ্রলয়, যা কারও পক্ষে সঠিক ও যৌক্তিক কোনো শর্তে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
আর্নড ডি বর্চগ্রেইভ ও ক্লেয়ার হোলিংওয়ার্থ : নিউজউইকের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক আর্নড ডি বর্চগ্রেইভ ও ডেইলি টেলিগ্রাফের সাংবাদিক ক্লেয়ার হোলিংওয়ার্থ ১৯৭১-এর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে গোপালগঞ্জ সফর করেন এবং মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের যুক্তিসংগত বিশ্বাস জন্মে যে বাংলাদেশের বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তখন ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান কনসাল হার্বার্ট ডেনিয়েল স্পিভাক তাদের সঙ্গে আলাপ করে তার ভিত্তিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে সেক্রেটারি অব স্টেটকে একটি দীর্ঘ ও গোপন টেলিগ্রাম পাঠান এবং উল্লেখ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
স্ট্যানলি টাইগারম্যান : স্ট্যানলি টাইগারম্যান, একাত্তরে বয়স ৪০ বছর, বিশ্বব্যাংকের প্যানেলভুক্ত শিকাগোর একজন স্থপতি। বিশ্বব্যাংক পূর্ব পাকিস্তানে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থাপত্য সহায়তা প্রদান করতে স্ট্যানলি টাইগারম্যানকে দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তিনি বিশ্বব্যাংককে জানিয়ে দেন, তিনি পাকিস্তানের ‘ফ্যাসিস্ট সামরিক শাসকদের সঙ্গে আর কাজ করতে পারবেন না’।
একটি সংবাদ সম্মেলনে স্ট্যানলি টাইগারম্যান প্রদত্ত বক্তব্য অনূদিত হলো : ‘আমি একজন স্থপতি আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। যে ঢাকাকে আমি চিনতাম এটা সে শহর নয়। আতঙ্কের একটি পর্যায় আছে যে, যখন পার্থিব যান্ত্রিক বিষয়-আশয় নিয়ে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। হুমকি, অনুসন্ধান, চেক পয়েন্ট ইত্যাদিসহ চারদিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে সামরিক আইন কর্তৃপক্ষ যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তাতে এটা ‘পুলিশ স্টেট’-এর সমতুল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে আমার যে ধারণা তার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। আজ আমি বিশ্বব্যাংক ও পাকিস্তান সরকারকে টেলিগ্রাম যোগে জানিয়ে দিয়েছি আমার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী আমার দিক থেকে টার্মিনেশন ক্লজ (চুক্তি রহিতকরণ) প্রয়োগ করছি। এই দেশ যখন স্বাধীন হবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে আমি সেখানে সফরে যাব এবং আশা করি কাজ করতে আগ্রহী হব কারণ আমি এই মানুষগুলোকে এবং তাদের দেশকে অনেক ভালোবেসেছি। আমি একজন স্থপতি, আমি একজন মানুষও বটে।’
অন্যদিকে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের একাংশ নিজেদের ফ্যাসিস্ট সামরিক শাসকদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন, গ্যারিসনে খানাপিনা সরবরাহ করেছেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেলে কথিত সিক্সটিন্থ ডিভিশনের মতো পোশাক পাল্টে ফেলেছেন।
আলফ্রেড কাস্টলার : পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী আলফ্রেড কাস্টলার বুদ্ধিজীবী হিসেবেও ইউরোপে পরিচিত। তিনি জার্মান ভাষায় কবিতা লিখতেন। ৮ অক্টোবর ১৯৭১ তিনি প্যারিসে লে ফিগারো পত্রিকায় বাংলাদেশের শরণার্থীদের নিয়ে লিখেন : পৃথিবীর জন্য হিরোশিমা ছিল ভয়াবহ একটি আঘাত। মুহূর্তের মধ্যে শতসহস্র মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেল। এই আঘাত আমাদের বিবেক জাগাল, আমাদের সচেতন করে জানিয়ে দিল, আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি, যেখানে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কারগুলো জীবন রক্ষার সাফল্য দেখার আগেই মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আমাদের শিক্ষা ছিল, আমাদের বিপরীত দিকে যাদের অবস্থান, তারা আমাদের শত্রু হলেও আমাদের মতোই মানুষ।
যে সময় হিরোশিমার ঘটনা ঘটেছে, সে সময় এ ধরনের ট্র্যাজেডির ব্যাপকতা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। হিরোশিমা ট্র্যাজেডির যারা শিকার, তাদের মধ্যে তারাই ভাগ্যবান, যারা মৃত্যুবরণের বিষয়টি বুঝেই উঠতে পারেনি। ভিয়েতনামের নাপাম বোমার আগুনের নিচে ড্রেসডেনের শত-সহস্র মানুষ যে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করেছে, সেই ট্র্যাজেডি ছিল আরও বেশি ভয়ংকর। সপ্তাহের পর সপ্তাহ লাখ লাখ নারী-পুরুষ-শিশু নাৎসি হত্যাযজ্ঞের সময় যেভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনেছে, তা কি আরও ভয়াবহ ছিল না? আরেকটি ট্র্যাজেডি এ মুহূর্তে আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে, অথচ আমরা সবাই নির্বিকার।
আঁদ্রে মালরো : ফরাসি দার্শনিক আঁদ্রে মালরো পূর্ব পাকিস্তানের গেরিলাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লড়াইও করতে চেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে চিঠি লিখেছেন, ‘যখন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী অর্থাৎ আপনার সেনাবাহিনী ভিয়েতনামের নগ্নপদ যোদ্ধাদের পরাস্ত করতে ব্যর্থ হলো, আপনি কেমন করে বিশ্বাস করেন স্বাধীনতার জন্য উদ্বেল একটি দেশকে ১ হাজার ২০০ মাইল দূর থেকে ইসলামাবাদ এসে পুনরুদ্ধার করতে পারবে? যখন পৃথিবীর নিয়তি অনিশ্চিত, বঙ্গোপসাগরে রণতরী পাঠানো কোনো নীতি হতে পারে না। হতে পারে শুধুই অতীতের ধ্বংসস্তূপ।
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো, হোর্হে লুই বোর্হেসসহ অনেক লাতিন আমেরিকান লেখক বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী তিনজন অর্থনীতিবিদ; বিবৃতিদাতাদের আরও তিনজন পরে অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
১ আগস্ট ১৯৭১ নিউ ইয়র্কে কনসার্ট ফর বাংলাদেশে বব ডিলান গাইলেন প্রতিবাদের অ্যানথেম ‘ব্লোইন ইন দ্য উইন্ড’ : ‘কতগুলো রাস্তা অবশ্যই পেরিয়ে এলে একজন মানুষ/তুমি তাকে মানুষ বলবে?/ কতগুলো সমুদ্র অবশ্যই একটি সাদা ঘুঘুকে পাড়ি দিতে হয়/ সৈকতে ঘুমে ঢলে পড়ার আগে?/ কতবার কামানের গোলা অবশ্যই ছুড়তে হয়/ চিরতরে তা নিষিদ্ধ হওয়ার আগে?/ বন্ধু আমার জবাব তোমার বাতাসে ভাসছে।’
একাত্তরে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা কী করেছেন এ প্রশ্ন উত্থাপিত হলে অত্যন্ত সন্তোষজনক জবাব দেওয়া যাবে মনে করার কোনো কারণ নেই। (সূত্র : লেখকের বিদেশির চোখে ১৯৭১ এবং একাত্তরের দলিল ৩ খন্ড)
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক
