নয়াপল্টনের ঘটনায় বিদেশি মিশনে সরকারের চিঠি

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৫৯ এএম

গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে ঢাকার কূটনৈতিক মিশনগুলোতে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চিঠি পাঠানোর কারণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এর আগে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়। শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ এবং রাজধানীতে বড় কিছু ঘটলে আমরা সবাইকে জানিয়ে রাখি। এটা একেবারে স্বাভাবিক কূটনৈতিক চর্চার মধ্যে পড়ে। অতীতেও  হয়েছে।’

ঢাকায় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে অভিযোগ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিএনপি ১০ তারিখ ঘিরে নানা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে দেশে এবং দেশের বাইরে। তারা মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে লবিস্টের পেছনে। তারা নিশ্চিত ছিল নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আসবে, সেটাকে ঘিরে তারা উৎসব করতে চেয়েছিল। তারা ভেবেছিল সবাইকে জানাবে সরকারের কোনো বন্ধু নেই। কিন্তু বিএনপির পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গতকাল (সোমবার) আমাদের দেশে যারা রাষ্ট্রদূত আছেন তাদের একটি প্রেসনোট পাঠিয়েছি। কারণ আমরা ১০ তারিখের পর থেকে দেখেছি এবং আমাদের কাছে তথ্য আছে সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা-দুপুর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দূতাবাসে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন কূটনীতিকের সঙ্গে তারা দেনদরবার করছেন। আমরা কোনো ব্রিফিং বা অন্য কিছু করতে চাইনি। মিশনে আমরা শুধু তথ্যগুলো দিয়েছি। ১০ তারিখে কী ঘটেছিল বা ৭ তারিখে কী ঘটেছিল। আমরা কোনো ব্রিফিং বা অন্য কিছু করতে চাইনি। আমরা শুধু তথ্যগুলো দিয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেকবার আপনাদের বলেছেন এবং ডিএমপি কমিশনারও বলেছেন। অন্যরাও বলেছেন যে, কোনোভাবেই বিএনপির কোনো সমাবেশে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় সেই চেষ্টা সরকার করেছে। ঢাকাতেও সেটা করা হয়েছে, যেটা আপনারা অন্য বিভাগগুলোতেও দেখেছেন। কিন্তু তারা সে নির্দেশনা না মেনে অতি উৎসাহী হয়ে ৭ ডিসেম্বর থেকে রাস্তাঘাট ব্যারিকেড দিয়ে দখল করার চেষ্টা করেছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে, বিএনপির অফিসে ১৬০ মণ নাকি ১৬০ বস্তা চাল তারা নিয়েছে। তো রাজনীতি তো আসলে এটা নয়। ওই বিএনপির অফিসে খিচুড়ি রান্না হবে। জনসভার জন্য নয়াপল্টন অনুমোদন করা হয়নি। কিন্তু ৩ দিন আগে থেকেই তারা দখল করার চেষ্টা করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো বিশাল একটি ঐতিহাসিক উদ্যানের মতো বিশাল একটি ঐতিহাসিক জায়গায় বিএনপি সমাবেশ করতে চায়নি একটি কারণে। ডিসেম্বর মাসে একটি নৈতিক স্খলন যে তাদের শুরু থেকেই আছে, সেটার সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্পিরিটের সঙ্গে মেলে না। দ্বিতীয় হলো, এত পরিমাণ মানুষের সমাগম তারা করতে পারবে না। তাদের সাধুবাদ জানাই, তারা গোলাপবাগ মাঠ বেছে নিয়েছে। এ বিষয়গুলো আমরা দূতাবাসগুলোকে জানিয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মির্জা আব্বাসের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যেটা জানিয়েছি, সেটা নিশ্চয়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আপনাদের জানানো হয়েছে। সেটা হলো তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, এটার প্রাথমিক তদন্তের জন্য তাদের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে যে পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন অযোগ্য মনে করেছে। তাদের জামিন দেননি। এ তথ্যই মূলত আমরা আমাদের বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে দিয়েছি।

সোমবার মিশনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ ডিসেম্বর দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করেন। ওইদিন তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না। কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতিও তারা নেননি। অবরোধের কারণে নয়াপল্টন এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটায় পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু বিএনপির বিক্ষোভকারীরা তা অগ্রাহ্য করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের পাশাপাশি যানবাহন ভাঙচুর শুরু করে। তাদের হামলায় পুলিশের ৪৯ জন সদস্য আহত হন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। দুঃখজনকভাবে সংঘর্ষের মধ্যে একজন পথচারী নিহত হন। তখন পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় সম্পদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।

চিঠিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তারের কারণ ব্যাখ্যা করেছে সরকার। কারণ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়, নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেপরোয়া সহিংসতার পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার জন্য দলীয় কর্মীদের উসকানি দেওয়ায় তারা সম্পৃক্ত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত