মরক্কোকে সহজেই হারাবে ফ্রান্স

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩২ এএম

ফ্রান্স কি টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারবে? যে কৃতিত্বটা আছে শুধু ইতালি ও ব্রাজিলের। ইংল্যান্ড কঠিন পরীক্ষাই নিয়েছে ফরাসিদের। অন্যদিকে স্বপ্নযাত্রা চলছে মরক্কোর। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বাইরে কোনো দেশ আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতেনি। প্রথম কোনো আরব দেশ এবং আফ্রিকার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কো। কতটা দূর যাবে তারা?

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফ্রান্স আর মরক্কো হবে মুখোমুখি। যে দলগুলো সেমিফাইনালে পৌঁছেছে, ধরে নেওয়া হয় এই চারটা দলই আসরের সেরা। এই পর্যায়ে এসে বিজয়ী নিয়ে পূর্বানুমান করা কঠিন। তবুও বিগত কয়েক মাসের পারফরম্যান্স আর বিশ্বকাপের প্রথম দিকের রাউন্ডের খেলাগুলো পর্যালোচনা করলে বলা যায়, ফ্রান্স সহজেই মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে খেলবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মরক্কোর লড়াকু মনোভাব ছিল প্রশংসা করার মতো। লড়াকু মনোভাবের কথা বললেই আসলে আবেগ চলে আসে। আবেগের কথা বললে, মরক্কো দারুণ একটা বিশ্বকাপ কাটাচ্ছে, ওদের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বড় বড় লিগে নামি ফুটবলারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলছে। সেমিফাইনালে খেলা প্রথম আফ্রিকান দল, ইতিহাসটা আরেকটু সমৃদ্ধ তারা করতেই পারে!

মরক্কো বিশ্বকাপে হারিয়েছে বেলজিয়াম, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন আর সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালকে। তারা চাইবেই এই গতিতে এগিয়ে যেতে, সামনে বাধা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। মরোক্কানরা চাইবেই রূপকথাটা নতুন করে লিখতে।

মরক্কোতে বেশ কয়েকজন ভালো ফুটবলার আছে যারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলে। আশরাফ হাকিমি খেলে প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে, হাকিম জিয়েচ চেলসির উইঙ্গার আর সেভিয়ার গোলরক্ষক বুনু। তাদের প্রত্যেকের কাছেই ভালো খেলার প্রত্যাশা করেছিল দেশটি। তবে এতটা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করেনি যে তারা একটার পর একটা ম্যাচে নিজেদের ভালো খেলার মাত্রাটা বাড়িয়ে দেবে আর বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠে আসবে। মরক্কোর আগে আফ্রিকার কোনো দলের সেরা সাফল্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানা এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।

মরক্কোর এই বিশ্বকাপে সফল হওয়ার কারণ তারা খেলার গতিটা কমিয়ে এনে রক্ষণে সুদৃঢ় এক দেয়াল তৈরি করতে পেরেছে। তারা খুবই কম গোল হজম করেছে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের পর কোনো দলকে এতটা সফলভাবে রক্ষণ আগলে রাখতে দেখা যায়নি। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি, তারা রক্ষণে খুবই সফল ছিল, সেমিফাইনালে আসার পথে তারা বোধহয় মাত্র ১ গোল হজম করেছিল সেটাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।

আফ্রিকান দলগুলো খুব কঠিন রক্ষণ আর কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলা খেলে। মরক্কোও সেরকমই খেলেছে। পাঁচটা ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলে শট নিয়েছে ১০ বার। অন্যদিকে মরক্কো মাত্র একটা গোল হজম করেছে, সেটাও আত্মঘাতী। নায়েফ অগার্দের গোলের পরও সেই ম্যাচটা তারা কানাডার বিপক্ষে জিতেছিল ২-১ গোলে। ইউরোপের বড় বড় সব দল বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে মরক্কো আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান্স দেখিয়েছে কেন তারা বিশ্বের সেরা দল। এমবাপ্পেকে ওরা বোতলবন্দি করে রেখেছিল। তারপরও দেশমের শিষ্যরা দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা সাহসী, পরিণত আর দক্ষ একটা দল। যে কোনো মুহূর্ত থেকে ফ্রান্স দলটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং তারা সেটা করে দেখিয়েছে, এজন্য তাদের দলে প্রতিভাবান ফুটবলারের যে অবিরাম প্রবাহ সেটাই একটা বড় কারণ। যারাই দলে আসে, তারা নিখুঁতভাবে দলের ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। এজন্য দেশম এবং ফেডারেশনকে কৃতিত্ব দিতেই হবে কারণ ছোটবেলা থেকেই তারা খেলোয়াড়দের মনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ের মানসিকতাটা ঢুকিয়ে দিয়েছে।

ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের পরিণতবোধের কারণে দলটা অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণও। ফ্রান্স খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করে কারণ তাদের সেটা করার মতো সামর্থ্য আছে। তারা জানে কখন গতি বাড়াতে হবে আর কখন ধৈর্য ধারণ করতে হবে, এটা তারা করতে পারে কারণ তাদের হাতে খেলোয়াড় আছে। তাই কাতারে যদি পারফরম্যান্স গণনা করি, তাহলে বলতে হবে ফ্রান্সের কথা আর যদি আবেগের কথা বলি তাহলে বলতে হবে মরক্কোর কথা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত