জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা সার কারখানায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ ঘটনায় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সরিষাবাড়ী থানার এসআই আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ৫২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৬০-৬৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেলি আক্তারের স্বামী মোস্তাক হোসেন ও পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেনসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে যমুনা সার কারখানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম মানিক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় একপক্ষের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর খান বলেন, আওয়ামী লীগের দুইপক্ষে সংর্ঘষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়া এবং হামলার ঘটনা ঘটে। তিন পুলিশ সদস্য আহত হলে উভয়পক্ষের চিহ্নিত ৫২ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৬০-৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, যমুনা সার কারখানায় পরিবহন চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩০ অক্টোবর রফিকুল ইসলাম ও আশরাফুল আলম মানিক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তখন এসআই আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে রফিকুল-মানিকসহ উভয়পক্ষের ১২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিরা সম্প্রতি জামিনে আসার পরই পুনরায় উভয়পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ফের সংঘর্ষে জড়ায়।
