অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে আর বাকি মাত্র এক দিন। সবাই তাকিয়ে আছে কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ? একদিকে কিলিয়ান এমবাপে। অন্য দিকে, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। দুই দলই তাদের নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা গড়বে এমনটাই স্বাভাবিক।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ম্যাচে বাদে টুর্নামেন্টের বাকি খেলাগুলো নেতার মতোই খেলছেন লিওনেল মেসি। ফাইনালে তাকে আটকাতে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স কাকে তৈরি রাখছে?
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফ্রান্স শিবিরে সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল মাঝমাঠ। পল পগবা, এনগোলো কান্তে দু-জনই চোটের জন্য টুর্নামেন্টের আগেই ছিটকে যান। সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা ছিল কান্তের না থাকা নিয়ে। তার অনুপস্থিতি পূরণ করা কার্যত অসম্ভব। আর সেটাকেই সম্ভব করে তুলেছেন তরুণ মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি। ক্লাব ফুটবলে খেলেন রিয়াল মাদ্রিদে। পোগবা, কান্তে দু-জনের অনুপস্থিতি টের পেতে দেননি তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদে কার্লো আনচেলত্তির কোচিংয়ে তাকে মূলত দেখা যায় অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। কাতারে তার ভূমিকা বদল হয়েছে। মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। মরক্কোর বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেও সবচেয়ে বেশিবার প্রতিপক্ষের থেকে বল রিকোভার করেছেন চুয়ামেনি। ফাইনালে তাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। আর সেই গুরুদায়িত্ব হল লিওনেল মেসিকে আটকানো।
এ বারের বিশ্বকাপে স্বপ্নের ছন্দে রয়েছেন মেসি। পাঁচটি গোল। তিনটি অ্যাসিস্ট। ম্যাজিকাল কিছু পাস বাড়িয়েছেন। চার ফুটবলার তাকে ঘিরে থাকলেও দুর্ভেদ্য পরিস্থিতি থেকে গোলের পাস বাড়িয়েছেন মেসি। তাকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা গড়তেই হত। সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে চুয়ামেনিকেই।
ফাইনালেও তার ভূমিকা কিছুটা বদল হবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ফাইনালে পাওয়া যাবে ব়্যাবিয়টকে। ফলে গত কয়েক ম্যাচে যেমন আক্রমণেও উঠেছেন চুয়ামেনি, ফাইনালে সেটা কম দেখা যেতে পারে। সেই দায়িত্ব থাকবে ব়্যাবিয়টের। পিভোট হিসেবে থাকবেন চুয়ামেনি। মরক্কো ম্যাচের পরই ফাইনাল এবং মেসিকে আটকানো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন চুয়ামেনি।
তিনি বলেছিলেন, আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে হবে। এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। উল্টো দিকে মেসি রয়েছে। সঙ্গে বাকিদের কথা ভুললেও চলবে না বলেন তিনি।
মেসিকে ম্যান মার্কিংয়ের দায়িত্ব যে তার উপরেই, সে কথাও বুঝিয়ে দেন চুয়ামেনি। যা খুবই কঠিন কাজ। চুয়ামেনি বাধা পেরিয়ে মেসি আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন কী না, নজর থাকবে সে দিকেই।
