কাজে আসছেন না পেনালটি স্পেশালিস্টরা, যা বলছে গবেষণা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২৩ পিএম

লুসাইলে অপেক্ষা করছে মাহেন্দ্রক্ষণ। কাতার বিশ্বকাপের যে পর্দা নামবে সেদিন। সে রাতে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে জিতবে সেই পরবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট। লড়াইটা যদি গড়ায় টাইব্রেকারে তবে উভয় দলের কোচেরই ঝুঁক থাকবে পেনালটি স্পেশালিস্টদের মাঠে নামানোর। তবে এ প্রলোভনের ফাঁদে পা না দেওয়াই মঙ্গল হবে দিদিয়ের দেশম ও লিওনেল স্কালোনির। কারণ এবারের বিশ্বকাপে কাজে আসেনি এই কৌশল।

ক্রীড়া বিশ্লেষক নিলসেন গ্রেসনোট বিশ্বকাপের দলগুলোর পেনালটি স্পেশালিস্টদের তুলনামূলক ফর্ম পর্যালোচনা করে জানান, ইউরোপের দলগুলো গত ১৬ বছরে বিশ্বকাপে বা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অতিরিক্ত সময়ের শেষে পেনালটি নেওয়ার জন্য যে সাতজন ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছিল, তারা সবাই শট মিস করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি দলই টাইব্রেকারে হেরেছে।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার এমনটি ঘটেছিল। যখন ইংল্যান্ডের ম্যানেজার সোভেন গোরান এরিকসন সেন্টার ব্যাকের জেমি ক্যারাঘারকে দলে ভিড়িয়েছিলেন। টাইব্রেকারে তিনি সবকিছু ছাপিয়ে যাবেন এই ধারণা থেকে নিলেও পরে সেটা ভুল প্রমাণিত হয়। তারপর কেটে গেছে দশটি বছর। মাঝে আর কোনো ঘটনা না হওয়ায় চাপা পড়ে এই সিদ্ধান্তের আলোচনা।

তবে ফের আসে ২০১৬ সালে আরও এক পুনরাবৃত্তির জেরে। তারপরও থামেনি, এবারও আলোচনায় সেই প্রসঙ্গ। যখন গতবছরের ইউরোতে তিনজন এবং এবারের বিশ্বকাপে আরও দুজন ফুটবলার এসেছেন শুধুমাত্র পেনালটি স্পেশালিস্ট হিসেবে। যা একজন দক্ষ ফিনিশারের ইতিবাচক দিক বলে ধারণা অনেকের। আবার অনেক কোচ মনে করেন, চাপ মোকাবেলা করতে পারে এই কৌশল। একজন ফুটবলার দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে একটি বল স্পর্শ না করে বেশিরভাগ সময় বসে কাটাতে পারে। কেবলমাত্র খেলা টাইব্রেকারে গড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে।

এ বিষয়টিকে ‘ওয়ার্ম-আপ ডিক্রিমেন্ট’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া, স্বাস্থ্য ও ব্যায়াম বিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. ম্যাট মিলার-ডিক্স। তার মতে, এই কৌশলটা অনেক ক্ষেত্রে দারুণ। কারণ একজন খেলোয়াড় তো পুরো সময় মাঠে ছিল না। কিন্তু অনুশীলনে তো কেউই ছাড় দেয় না। সেখানে সর্বোচ্চ পরিশ্রম ও কৌশল রপ্ত করে সবাই। ফলে সবাই তৈরি থাকে, মাঠে কখন নামছে, সেটা বড় কথা নয়।

তবে এই সিদ্ধান্তকে আবার পুরোপুরি সমর্থনও করেন না ব্যায়াম বিজ্ঞানের শিক্ষক মিলার-ডিক্স। তিনি এক গবেষণার উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘বাস্কেট বল নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রথম থ্রোয়ের পর দ্বিতীয় যে থ্রোটা করে খেলোয়াড়রা, সেটার অ্যাকুরেসি অনেক বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের খেলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সাফল্য আসে দ্বিতীয় থ্রো থেকে।’

এই গবেষণার সঙ্গে পেনালটির সামঞ্জস্যতার যোগাযোগ টেনে নিয়ে এসে তিনি বলেন, ‘মাঠে যারা দীর্ঘসময় থাকে তারাই পেনালটিতে সফল হয়। কারণ ততক্ষণে অনেকগুলো শট তাদের নেওয়া হয়ে যায়। ফলে পেনালটির সময় পায়ে গতি থাকে বেশি। কারণ আগের দিন অনুশীলনে প্রস্তুতি নিয়ে পরের দিন মাঠে নেমেই প্রত্যাশানুযায়ী শট নেওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড়রা সেটা পারেন। কারণ ততক্ষণে ফ্রি কিক, কর্ণারসহ একাধিক শট নেওয়া হয়ে যায়। ফলে তারা পেনালটি নিলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

বিশ্বকাপের ফাইনালে তাই দুই দলের কোচ যদি পেনালটি স্পেশালিস্টের দিকে ঝুঁকে থাকে, তবে সেটা হবে ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও কি হবে সেটা দেখা যাবে কাল লুসাইলে বল মাঠে গড়ালে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত