হ্যাটট্রিক গোল্ডেন বুটেও বিষণ্ণতা এমবাপ্পে

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১৩ এএম

খেলার আগে যেমন লড়াইটা, খেলাতেও ছিল তেমন। লিওনেল মেসি একবার এগিয়ে যাচ্ছিলেন, পরক্ষণেই এগিয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনের এ লড়াইটা ছিল গোল্ডেন বুটের জন্য। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোলের ঝুড়ি নিয়ে সোনালি বুটটা জিতবেন যে কেউ। দিন শেষে ওই বুটটি উঠল ফ্রান্স তরুণ এমবাপ্পের হাতেই। গোলের লড়াইয়ে মেসিকে পেছনে ফেলে ২২তম বিশ্বকাপে ২২তম গোল্ডেন বুটজয়ী হলেন। এ অর্জনের পথে বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ফুটবলার হয়েছেন এমবাপ্পে। এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

মেসির সঙ্গে এমবাপ্পের লড়াইটা জমে ওঠে ফাইনালের ৮১তম মিনিটে। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ফাইনালে পাত্তাই পাচ্ছিল না ফ্রান্স। হঠাৎ ধূমকেতুর মতো ম্যাচটা ছিনিয়ে নেয় তারা। কারিগর এমবাপ্পে। ফাইনালে দুজনই সমান পাঁচ গোল নিয়ে নেমেছিলেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে। মেসি প্রথমে ২৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ছয় গোল নিয়ে এগিয়ে যান। ডি মারিয়ার ৩৬ মিনিটের গোলের পর মনে হচ্ছিল গোল্ডেন বুট ও বলজয়ী ষষ্ঠ ফুটবলার হতে চলেছেন মেসি। কিন্তু ৮০ মিনিটে পেনাল্টি এবং ৮১ মিনিটে ফিল্ড থেকে এমবাপ্পে সাত গোল নিয়ে পেছনে ফেলেন মেসিকে। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। নাটকীয়তার রেশ যেন আরও বাড়ছিল তখন।

অতিরিক্ত সময়ে ১০৮ মিনিটে ম্যাচের নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। গোললাইন প্রযুক্তির নতুন সংযোজনে মেসির ওই শটটি ফ্রান্স ফুটবলার ফেরালেও তা গোল হয়। ওই গোলে সাত গোল নিয়ে এমবাপ্পের সমানে আসেন মেসি। দুজনেরই তখন সাত গোল। এরপর খেলা শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আরেকবার পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে যান এমবাপ্পে। তার আগে এক বিশ্বকাপে আট গোল ছিল ২০০২-এ ব্রাজিলের রোনালদোর। এর আগে ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আদেমির ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের লিওনাইদাসের এক আসরে আটটি করে গোল ছিল। আর সর্বপ্রথম ১৯৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিলেরমো স্তাবিল আট গোল করেছিলেন। এক আসরে আট গোল করা এ পাঁচ ফুটবলারের চেয়ে বেশি গোল আছে চারজনের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩টি ফ্রান্সের জিস্ত ফন্তেইন, ১৯৫৪ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১টি হাঙ্গেরির সান্দোর কসিস, ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১০ গোল করা জার্মানির জার্ড মুলার আর ৯ গোল করা ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর্তুগালের ইউসেবিও।

আসরে আট গোল হওয়ায় গতবারের চার গোল নিয়ে ১২টি গোল হলো এমবাপ্পের। মাত্র দুই বিশ্বকাপে গোলের দিক থেকে এত বড় লাফ আর কোনো ফুটবলারের পক্ষে হয়তো দেওয়া সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপে সেরা স্কোরার জার্মানির মিরোস্ল্যাভ ক্লোসা। মাত্র চার গোল দূরে থাকা এমবাপে ক্লোসাকে পেছনে ফেলতে ছুটছেন। পাশাপাশি ১২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ গোলের হিসেবে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলেকে ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে। ফরাসিদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরার হতে আর এক গোল চাই তার। জিস্ত ফন্তেইনকে পেছনে ফেলে পরের বিশ্বকাপেই শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।

গোল্ডেন বুট জিতেছেন তবে এ জয় এমবাপ্পের আরাধ্য ছিল না। যেই পুরস্কারের জন্য একের পর এক গোল করে হ্যাটট্রিক করলেন, সেই সোনালি ট্রফিটাই তো হাতে এলো না। এর চেয়ে কম গোল করে গতবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জেতাটাই তো ভালো ছিল তার জন্য! ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণীতে সেই ছবি ফুটে উঠে এমবাপ্পের শরীরী ভাষায়। বুট নিচ্ছিলেন কিন্তু মুখে হাসি নেই। ছবি তুলতে আগ্রহ নেই। আর শেষে ব্যক্তিগত পুরস্কারপ্রাপ্ত সবার সঙ্গেও ছবি তুললেন অনীহা নিয়ে।

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটজয়ী

২০১৮ : হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড, ৬ গোল)

২০১৪ : হামেস রদ্রিগেজ (কলম্বিয়া, ৫ গোল)

২০১০ : থমাস মুলার (জার্মানি, ৫ গোল)

২০০৬ : মিরোসøাভ ক্লোসা (জার্মানি, ৫ গোল)

২০০২ : রোনালদো (ব্রাজিল, ৮ গোল)

১৯৯৮ : ডেভর সুকের (ক্রোয়েশিয়া, ৬ গোল)

১৯৯৪ : ওলেগ সালেঙ্কো (রাশিয়া, ৬ গোল)

১৯৯০ : সালভাতর সিলাচি (ইতালি, ৬ গোল)

১৯৮৬ : গ্যারি লিনেকার (ইংল্যান্ড, ৬ গোল)

১৯৮২ : পাওলো রসি (ইতালি, ৬ গোল)

১৯৭৮ : মারিও কেম্পেস (আর্জেন্টিনা, ৬ গোল)

১৯৭৪ : গ্রেগর্জ লাতো (পোল্যান্ড, ৭ গোল)

১৯৭০ : জার্ড মুলার (জার্মানি, ১০ গোল)

১৯৬৬ : ইউসেবিও (পর্তুগাল, ৯ গোল)

১৯৬২ : ফ্লোরিয়ান অ্যালবার্ট (হাঙ্গেরি, ৪ গোল)
 

১৯৫৮ : জাস্ত ফন্তেইন (ফ্রান্স, ১৩ গোল)

১৯৫৪ : সান্দোর কসিস (হাঙ্গেরি, ১১ গোল)

১৯৫০ : আদেমির (ব্রাজিল, ৮ গোল)

১৯৩৮ : লিওনাইদাস (ব্রাজিল, ৮ গোল)

১৯৩৪ : ওল্ডরিচ জেদেলি (যুগোসøাভিয়া, ৫ গোল)

১৯৩০ : গিলেরমো স্তাবিল (আর্জেন্টিনা, ৮ গোল)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত