হাসিমুখ রিপোর্টিং বিভাগ আলো ছড়ায় অফিসে

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৪৮ এএম

রিপোর্টিং বিভাগ একটি পত্রিকার প্রাণ। রিপোর্টিং টিম ঠিক থাকলে পত্রিকা ব্যবস্থাপনায় নির্ভার থাকা যায়, গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়। তবে অন্যান্য সব বিভাগও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব বিভাগের যথাযথ কাজ আর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই একটা পত্রিকার সাফল্য আসে।

আমাদের যাত্রা শুরুর রিপোর্টিং টিমের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল আমরা প্রায় শতভাগ রিপোর্টার একে অপরকে আগে থেকেই চিনতাম। বিভিন্ন সময় কেউ না কেউ কোনো না কোনো পত্রিকায় একসঙ্গে কাজ করেছি। ফলে বোঝাপড়ার বিষয়টি আমাদের জন্য সহজ ছিল। সাবলীল ছিল আলাপচারিতা, তথ্য লেনদেন, টিম পরিচালনা। কঠোর বিধিনিষেধে কখনোই পড়তে হয়নি আমাদের।

রিপোর্টিং বিভাগ হচ্ছে খোলা হাটের মতো। রিপোর্টাররা হাটুরে। বাজার হাট মাঠ ঘুরে ঘুরে তথ্য আনেন। লেখেন। কী দেখলেন, কী অভিজ্ঞতা হলো, প্রতিদিন সেসব ঘটনা অকপটে তুলে ধরেন, গল্প করেন। এ ওর সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। হাসি-ঠাট্টা রাগ সব চলে এখানে। যতক্ষণ রিপোর্টাররা অফিসে থাকেন, ততক্ষণ প্রাণবন্ত থাকে অফিসটা। দিনের পর দিন, মাস, বছর রিপোর্টাররা হয়ে ওঠেন পরিবার, স্বজন, বন্ধু। রিপোর্টাররা ভালো থাকলে অফিসটা ভালো থাকে, শান্তি লাগে। হাসিমুখ রিপোর্টিং বিভাগ, আলো করে রাখে অফিস, একটি পত্রিকা।

সবশেষে বলতেই হয় দেশ রূপান্তরের এই যে সামনে তরতর করে এগিয়ে চলার ফ্রন্ট লাইনরা মাসে রিপোর্টাররা। কারণ এই টিমে আছেন অন্ততপক্ষে দেশের ১০ জন সেরা রিপোর্টার। যাদের নাম না বললেই নয়। সচিবালয় বিটের এই সময়ের সেরা রিপোর্টার আশরাফুল হক রাজীব, যিনি সব সময় এই অঙ্গনের একেবারে ভিতরের রিপোর্টগুলো খুঁড়ে খুঁড়ে আনেন। আরও আছেন, ক্রাইম বিটের এই সময়ে আলোচিত রিপোর্টার সারোয়ার আলম। দিন রাত সারাক্ষাণ যিনি দেশ রূপান্তরকে নিয়ে ভাবেন। অনেকগুলো ব্রেকিং নিউজ দিয়ে দেশ রূপান্তরকে পাঠক জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিটের রিপোর্টার পাভেল হায়দার চৌধুরী। যিনি আগাম খবর দিয়ে আমাদের পাঠকদের অন্য পত্রিকার পাঠকের কাছ থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রেখেছেন। বিজনেস বিটের কর্ণধার আলতাফ মাসুদ, খুবই ছোট টিম নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু পাঠককে বুঝতে দেননি। অর্থনীতি বিষয়ে বিশ্লষন করেন চমৎকার। রিপোর্টে রয়েছে ধার। শিক্ষায় শরীফুল আলম সুমন এখন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের জন্য রীতিমতো আতঙ্ক। আর তোফাজ্জল হোসেন রুবেলের কথা না বললেই নয়। যার বালিশের উত্তাপ নিয়ে আমি এখনো হাটে মাঠে ঘাটে প্রতিক্রিয়া পাই। ওই যে, বালিশ কাণ্ডের দেশ রূপান্তর। আর আদালতের উৎপল। সাদা মাটা মিষ্টি ব্যবহারের উৎপল আদালত পাড়ার জট আর মানুষের হয়রানি নিয়ে রিপোর্ট করে এই বিটের সেরা হয়ে উঠছেন। আমাদের সাথে আছেন অভিজ্ঞ রিপোর্টার প্রতীক ইজাজ। বিএনপি বিটের রেজাউল করিম লাভলু, বিএনপির সব পরিকল্পনা আগে আগেই তুলে ধরেন।

প্রতিশ্রুতিশীল এবং উদীয়মান রিপোর্টার ইমন রহমান, যার ধ্যানজ্ঞান সাংবাদিকতা। শুরু থেকেই একই ছন্দে কাজ করছে। মজ্জায় তার সাংবাদিকতার বারুদ। অর্থনীতি বিটের এমদাদ হোসেন এসেই কয়েকটা আলোচিত রিপোর্ট করেছেন। অর্থনীতির বিটের সদ্য যুক্ত হওয়া আনাস ভূঁইয়াও কম নয়। এসেই পাঠকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কম নয় ফারজানা লাবনীও কম নয়। এনবিআরে শততে শত। আমাদের টিমে আছে রিয়াজ হোসেন। মেধাবী রিপোর্টার, নীরবে কাজ করেন তবে আওয়াজটা পাঠকের কাছে অনেক বড়। সানমুন আহমেদ বয়সে তরুণ হলেও কাজে কোনো আলস্য নেই। যাই করতে দেওয়া হয় যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে সে রিপোর্ট যান করে। আছে পাঠান সোহাগ বুঝে শুনে কাজ করে। এটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হওয়ার প্রথম শর্ত। টিমের তাওসীফ মাইমুন। বাজারদর নিয়ে সব সময় চিন্তা। সবার আগে পাঠকদের নিত্যপন্যের দাম বাড়া কমার খবর দিয়ে অন্য পত্রিকার বাঘা বাঘা রিপোর্টারদের কাৎ করে ফেলে। সব মিলিয়ে এই টিমটা ছোট হলেও ঝাক্কাস।

লেখক : দেশ রূপান্তরের প্রধান প্রতিবেদক ও বিশেষ প্রতিনিধি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত