পার্বত্য চুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ ‘শান্তি পুরস্কার’ পেলেও পাহাড়ে ‘শান্তি ফেরেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি নেই।
শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) শাহবাগে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি' আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মেনন বলেন, পাহাড়িরা ‘অনিরাপদ করে রেখেছে’– এ জন্য পাহাড়ে যেতে নিষেধ করা হয়নি। বরং সেখানে জঙ্গিগোষ্ঠী ট্রেনিং ক্যাম্প তৈরি করেছে। এরা দেশের অভ্যন্তরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে এটি হবে উপজাতি অঞ্চল এবং এ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে সেখানে ডেমোগ্রাফি পাল্টে বাঙালি সংখ্যাধিক্য জনগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে।'
বাঙালিদের সমতলে ফিরিয়ে আনার কথা থাকলেও তা হয়নি জানিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, পার্বত্যবাসীরা এখন ক্রমাগত সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যে সরকার চুক্তি করেছিল সেই সরকারের আমলে পার্বত্য চুক্তির ২৫ বছর পরও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য রাজপথে দাঁড়ানো কাম্য ছিল না।
'স্বাধীনতার মাধ্যমে ১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচিত হয়েছিল, সেই সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই সময়ে এসে আদিবাসীদের পরিচয়কে অস্বীকৃতির মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা দেখানো হচ্ছে বলে আমি মনে করি', যোগ করেন প্রিন্স।
আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ও ওয়ার্কাস পার্টির সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সংবিধানে আদিবাসী শব্দটা নেই। কিন্তু পার্লামেন্টে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ‘ককাস’ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছিলেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম কম। কিন্তু আমাদের দাবিটা ছিল শক্তিশালী। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বাইরের জনগোষ্ঠীকে পাহাড়ে বসতি দিয়ে পাহাড়িদের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর করার প্রয়াস, আর অন্যদিকে শান্তিচুক্তি করা- এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা।
জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এ বিজয়ের রঙ গুটিকয়েক মানুষের মাঝে পৌঁছলেও সাধারণ খেটে-খাওয়া কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষের মাঝে পৌঁছায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি রয়েছে। এখনও উপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ, নিপীড়ন অব্যাহত আছে। ২৫ বছর পরেও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখনও সেখানে মানুষের নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করতে হয়।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়কে ‘রাজনৈতিক দলের মধ্যে’ না রেখে তা মানুষের কাছে উত্থাপন করে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।
সমাবেশে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বাসদ সহ-সাধরণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য ড. গন্ধরাজ মাহাত, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রুপা কবির, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বক্তব্য দেন।
