বেঁচে যাওয়া অর্থে নতুন কোচ কিনতে চায় রেলওয়ে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৬ এএম

রেলের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১৫০টি রেলকোচ কিনতে সে দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মধ্যে ৩ সেট ছিল ভিআইপি কোচ তথা প্রেসিডেন্ট স্যুট, যার মূল্য ধরা হয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। কিন্তু দাম অনেক বেশি পড়ায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ভিআইপি কোচের অর্থে আরও কিছু সাধারণ রেলকোচ কেনার চিন্তা করছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় সিপিটিইউ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, চুক্তির ১৪৭টি প্যাসেঞ্জার কোচের মধ্যে এই ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শিপমেন্ট হবে ১৮টি কোচ। সেটি ২০২৩-এর জানুয়ারির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলেও জানিয়েছে তারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ও ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভা (পিএসসি) অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, গত ২১ নভেম্বর ইআরডিতে অনুষ্ঠিত ইডিসিএফ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় বিজিডি-২১ ঋণচুক্তির আওতায় অব্যবহৃত ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যবহার করে অতিরিক্ত ক্যারেজ কেনা যাবে কিনা সে বিষয়টি বিবেচনার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইআরডির পরামর্শের আলোকে ইতিমধ্যে ক্যারেজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএসআরএসটির কাছ থেকে অতিরিক্ত ক্যারেজ কেনার জন্য কোটেশন চাওয়া হয়। তাদের পাঠানো নতুন কোটেশনে বিদ্যমান চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দাম চাওয়া হয়েছে।

সভায় জানতে চাওয়া হয়, নতুন কোটেশন বা দরপত্র অনুযায়ী অতিরিক্ত ক্যারেজ কেনার কোনো সুযোগ আছে কিনা। সভায় সব সদস্য একমত হন, ইডিসিএফের ঋণটি নমনীয় হওয়ায় তা ব্যবহার করা সরকারের জন্য উপকারী হবে। তবে সেক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও আলোচনা করে নতুন দর কমানো সম্ভব হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) বলেন, ইডিসিএফের ঋণটি সফট লোন বিধায় এটি ফেরত না দিয়ে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা যৌক্তিক। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান জানতে চান, সাশ্রয়কৃত অর্থে অতিরিক্ত ক্যারেজ সংগ্রহের জন্য অফিসিয়াল ‘কস্ট অ্যাস্টিমেট’ করা হয়েছে কিনাÑ জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে এখনো অফিসিয়াল কোনো ‘কস্ট অ্যাস্টিমেট’ বা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়নি। এডিজি (আরএস) বলেন, আলোচনা করে চুক্তি অনুযায়ী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

প্রকল্পের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১৫০টি রেলকোচ কিনতে ক্রয় প্রস্তাবে বিধিবিধান মানা হয়নি। ২০১৭ সালের ১ জুলাই প্রকল্প অনুমোদন হলেও প্রকল্প পরিচালকের ঢিলেমিতে চুক্তি হতেই তিন বছর পার হয়ে যায়। প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ হাসান মনসুরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইস্পাতের তৈরি ১৫০টি রেলকোচ কিনতে ২০২০ সালের ২৯ জুলাই কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১৮ থেকে ৩০ মাসের মধ্যে কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে সরবরাহের কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কোরিয়ার এ কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তাতে যাত্রীরা সুফল পাবে। এসব কোচে স্টেইনলেস স্টিল বডি, বায়ো-টয়লেট যুক্ত থাকবে, স্বয়ংক্রিয় এয়ার ব্রেক ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় স্লাইডিং ডোরসহ আধুনিক সুবিধাযুক্ত থাকবে। ১৫০টি কোচের মধ্যে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিøপিং বার্থ ৩০টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ৩৮টি, শোভন চেয়ার ৪৪টি, খাবার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১৬টি, পাওয়ার গাড়িসহ শোভন চেয়ারকোচ ১২টি, রাষ্ট্রীয় পরিদর্শনের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি একটি, খাবার গাড়ি একটি, পাওয়ার গাড়ি একটি এবং পরিদর্শন কার একটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত