বিএনপি জোটের ‘কূটকৌশল’ ১২ দল মিলবে ১০ দফায়

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৪ এএম

সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কৌশলের অংশ হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে ২০ দলীয় জোটের শরিক ১২টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন জোটের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগপৎ আন্দোলনের অভিন্ন লক্ষ্যে ১২ দলীয় জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম। জোটের নেতৃত্বে থাকবেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

২০ দলীয় জোটের শরিক ১২টি ছোট রাজনৈতিক দলের পৃথক জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ২০ দলীয় জোট আর কার্যকর নেই। কারণ আমরা এবার সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন করব। তাই সেই আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আলাদা হয়েছি। এতে আমাদের আগামী দিনের আন্দোলন জোরদার হবে বলে মনে করছি।’ 

 ১২ দলীয় এই জোটে রয়েছে মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জাফর),  সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (নিবন্ধিত), মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশ (অনিবন্ধিত), সৈয়দ এহসানুল হুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় দল, কে এম আবু তাহেরের এনডিপি, শাহাদাত হোসেন সেলিমের   নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ এলডিপি, জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (অনিবন্ধিত), মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, মাওলানা আবদুর রকীবের ইসলামী ঐক্যজোট (অনিবন্ধিত), তাসমিয়া প্রধানের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা-নিবন্ধন বাতিল), নুরুল ইসলামের বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, আবুল কাসেমের বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (অনিবন্ধিত)।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জোটের কার্যক্রম আর নেই। এখন হবে যুগপৎ আন্দোলন।’ পরেরদিন অনানুষ্ঠানিক এক সভায় শরিকদের ডেকে বলে দেওয়া হয়, এখন থেকে কেউ যেন ২০ দলীয় জোটের নাম ব্যবহার না করে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ১২টি রাজনৈতিক দল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের চলমান সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের সব কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ১২ দল নামেই পরিচিত থাকব। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখব। সেই সঙ্গে বিএনপির ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত থাকবে ও ২৭ দফা রূপরেখার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের যে আন্দোলন করছে তা যুগপৎভাবে করা হবে। এ অবস্থায় বিএনপি আর ২০ দলীয় জোট কার্যকর রাখতে চায় না। এতে করে ছোট দলগুলো একা হয়ে যাচ্ছে। ফলে সমমনা এতগুলো  ছোট দলের সঙ্গে বিএনপির পক্ষে আলাদা বৈঠক করা বা যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে সমন্বয় করাও কঠিন হবে। বরং দলগুলো পৃথক জোটভুক্ত হলে তাদের সঙ্গে বিএনপির সমন্বয় করা সহজ হবে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েকটি শরিক দলসহ বাম প্রগতিশীল ধারার মোট সাতটি দল নিয়ে ইতিমধ্যে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠন হয়েছে। এই গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সমন্বয়ের জন্যও লিয়াজোঁ (সমন্বয়) কমিটি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত