আমরা এখানে ব্যবসা করতে আসিনি

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ক্রিকেট সংগঠক সারোয়ার চৌধুরী। ১৯৯৯ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে মার্কিন মুলুকে সফলতা পাওয়ার পর আলোচনায় এসেছেন আসন্ন বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে। বিপিএল নিয়ে দেশ রূপান্তরের রাফিদ চৌধুরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক কথাই বলেছেন এ তরুণ সংগঠক

শুনেছি আপনি সাবেক অধিনায়ক মাশরাফীর মাধ্যমে বিপিএলে জড়িয়েছেন। তার সঙ্গে পরিচয়টা কীভাবে?

সারোয়ার চৌধুরী : মাশরাফী ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সিলেট স্ট্রাইকার্সের পরিচালক শুভ্র ইউসুফ আমার অনেক পুরনো বন্ধু। বাকানা নামের একটি ক্লাবে ২০০৫ সাল থেকে আমি ওর সঙ্গে খেলেছি। সে খুব ভালো মানের একজন ক্রিকেটার। সে আসলে তার সময়ের সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। হঠাৎই দেশ ছেড়ে আমেরিকায় চলে যায়। সেজন্য আর জাতীয় দলে খেলা হয়নি। ওর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে একদিন জানলাম সে মাশরাফীর বাল্যবন্ধু। আমি মাশরাফীর ভক্ত। একদিন ফেসবুকে দেখলাম একজন পোস্ট দিয়েছেন মাশরাফী আমেরিকা এসেছেন। তখন আমি শুভ্রকে বললাম, তুমি আমাকে মাশরাফীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দাও। তখন আসলে মাশরাফী চলে যাচ্ছেন। এয়ারপোর্টে আসেন। সে আমাকে বলল, এক ঘণ্টার মতো সময় আছে। তুমি দ্রুত বিমানবন্দর চলে এসো। আমি যত দ্রুত সম্ভব সেখানে পৌঁছাই। তার সঙ্গে দেখা হয়, পরিচয় হয়। সেই থেকে আমাদের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকে আমরা এক সময় অনুভব করি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কিছু করতে হবে।

বিপিএলে যুক্ত হলেন কীভাবে?

সারোয়ার চৌধুরী : মূলত মাশরাফীর মাধ্যমেই বিপিএলে আমাদের পা রাখা। তাকে বলেছিলাম, আমি দেশের ক্রিকেটের জন্য কিছু করতে চাই। যদি কখনো কোনো সুযোগ থাকে আমাকে বলবেন। যুক্ত হওয়া গেলে আমার ভালো লাগবে। তখন মাশরাফী বলেন, আমি সাহায্য করতে পারি যদি আপনি বিপিএলে দল নিতে আগ্রহী হন। কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, সেটা আমি পারব। দেখুন চেষ্টা করে। আমরা সে চেষ্টাই করেছি এবং সফল হয়েছি।

বিপিএলে অনেক নতুন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি আসে তবে অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। সিলেট স্ট্রাইকার্স নিয়ে পরিকল্পনা কী?

সারোয়ার চৌধুরী : আমাদের পরিকল্পনা অবশ্যই দীর্ঘ। আমরা চাই এখানে দীর্ঘস্থায়ী হতে। বিপিএলের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় দল কতটা সুবিধা পেয়েছে জানি না। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে যদি বলি, তাহলে সে রকম কিছু দেখিনি। যেটা আইপিএল থেকে ভারতের ক্রিকেট পেয়েছে। সিলেট স্ট্রাইকার্সের মাধ্যমে যদি দুই-একজন ক্রিকেটারকে তুলে নিয়ে আসতে পারি সেটাই হবে আমাদের সফলতা। আমরা এখানে ব্যবসার জন্য আসিনি।

বিপিএলে ধারাবাহিক সফল হতে দেখা গেছে কেবল কুমিল্লাকে...

সারোয়ার চৌধুরী : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এটা ডিজার্ভ করে। তাদেরকে এজন্য অভিনন্দন। সত্যিকার অর্থে তারা বিপিএলের গেম চেঞ্জার। ওরা যেভাবে দলটা চালায়, বারবার চ্যাম্পিয়ন হতে যে চেষ্টাটা তাদের, তা আসলেই কৃতিত্বের দাবিদার। আমরাও এভাবে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে নিয়ে কাজ করতে চাই এবং সফল হতে চাই। অবশ্যই আমরা যখনই দল গড়ব, কখনই চিন্তা করব না যে কোনোমতে সেমিফাইনালে যেতে পারি। আমাদের চ্যাম্পিয়নের চিন্তা থাকবে সব সময়। এটা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যেখানে মাশরাফী আছে সেখানে লক্ষ্যটা বড়ই।

এই আসরে সিলেট স্ট্রাইকার্সে বড় কোনো চমক থাকছে?

সারোয়ার চৌধুরী : অবশ্যই বড় চমক দেওয়ার ইচ্ছা আছে। ইংল্যান্ড থেকে বেশ কয়েকজন ব্যাটারকে আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু সবার সাইনআপ হয়ে গেছে। অনেকে জানতে চেয়েছেন বাবর আজমের কথা। তার সঙ্গে কথা হচ্ছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেটার ছাড়া আসলে কোনো খেলোয়াড়ই ফ্রি নেই। আমরা আলাদাভাবে সব দেশের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল, তিনি সেরাদের একজন। তিনিও যোগাযোগ করেছেন। কোনো দেশের ক্রিকেটারই আসলে ফ্রি নেই। আমাদের যারা সমর্থক আছেন, তাদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা কাজ করে যে, সিলেট কখনই ভালো দল গড়ে না। আসলে ওটা ইচ্ছাকৃত নয়। তবে এটা তাদের বুঝানোও আমাদের দায়িত্ব যে আসলেই ভালো ক্রিকেটারের সংকট। 

আপনাদের মাদার কোম্পানির নামটা বেশÑ ফিউচার্স স্পোর্টস অব বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ নিয়ে মনে হয় অনেক পরিকল্পনা?

সারোয়ার চৌধুরী : এটা সিলেট স্ট্রাইকার্সের মাদার কোম্পানি। যেটা দিয়ে আমরা বিপিএলের বিডিং প্রক্রিয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা পেয়েছি। এর অধীনে আমাদের কয়েকটি পরিকল্পনা আছে। এখনই সব বলতে চাচ্ছি না। তবে এইটুকু বলতে পারি, আমাদের একাধিক অ্যাকাডেমি করার ইচ্ছা আছে। এটা নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে। আরও দুই-একটা পরিকল্পনা আছে। তবে আমাদের ইচ্ছে দেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে ভূমিকা রাখা।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ক্রিকেটে জড়ালেন কীভাবে?

সারোয়ার চৌধুরী : যুক্তরাষ্ট্রে আমার প্রবাস জীবন শুরু হয় নিউ ইয়র্কে। সেখানে আমরা আট মাসের মতো ছিলাম। তারপর মিশিগানে চলে যাই। সেখানে ক্রিকেট তো দূরের কথা কোনো ধরনের খেলাধুলা ছিল না বাঙালি কমিউনিটিতে। হাইস্কুল শেষ করি ২০০৫ সালে। কলেজে এক বছর লেখাপড়া করে আমি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে আসি। তখন এক বন্ধু বলল, নিউ ইয়র্কে ক্রিকেট খেলে বাঙালিরা। ওটার নাম ছিল বাকানা। খেলা শুরু করলাম। সেখানেই শুভ্রর সঙ্গে পরিচয়।

ক্রীড়া সংগঠক হওয়ার আগ্রহ জন্মালো কীভাবে?

সারোয়ার চৌধুরী : ক্রিকেটার হলেও আমি আসলে দলের মালিক ও অধিনায়ক সব ভূমিকাতেই ছিলাম। টানা ছয় বছর খেলেছি। ২০১৪ সালে আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (এনওয়াইবিসিএল) নিয়ন্ত্রণ নেই। সভাপতি হিসেবে যার দায়িত্ব সামলাই দীর্ঘ সাত বছর। আসলে লিগের উন্নতি করার জন্য তখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আগে যারা চালাতেন তারা সেভাবে আধুনিকায়ন করছিলেন না। যেহেতু নিউ ইয়র্কে অনেক দল ছিল। আমাদের সর্বোচ্চ ৪২টি পর্যন্ত দল ছিল দুই বিভাগে। সুতরাং সেখানে জরুরি ছিল ভালো সংগঠক, ভালো প্রতিশ্রুতির। আমরা সেটা নিয়ে এসেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। এখনো এটা আছে, খুব ভালোভাবে চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত