রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের উন্নয়নে ২০১৮ সালে ‘রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে যৌথভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও এলজিইডি। কিন্তু চার বছরেও প্রকল্প কাজের মূল অংশের দরপত্র আহ্বান করতে পারেনি এলজিইডি। যদিও এ সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। এলজিইডির কারণে এখন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সংস্থাটি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে একনেক সভায় মোট ৩২১ কোটি ২২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অনুমোদিত হয়। সে সময় প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন। প্রকল্পটির উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জন্য লিডিং সংস্থা হিসেবে কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এবং অঙ্গ সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে এলজিইডি।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, রংপুর বিভাগে কৃষি উৎপাদন বা ধান, গম ও ভুট্টার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা; রংপুর বিভাগের কমবেশি ৩০ শতাংশ জনগণের গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো সুবিধাদি সৃষ্টি এবং প্রকল্প এলাকার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক পরিবারের আয় ১০ শতাংশ বাড়ানো।
সভায় প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পটি রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৩৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির ডিএই খাতে ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক অগ্রগতি ৭৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ও ভৌত অগ্রগতি ৮৪ শতাংশ এবং এলজিইডি খাতে আর্থিক অগ্রগতি ৩১ কোটি টাকা ও ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক সভায় জানান, প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ইরিগেশন স্কিমের জরিপ, ডিজাইন পরামর্শকের দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ডিজাইন ও সুপারভিশন পরামর্শক নিয়োগে দেরি হওয়ায় প্রকল্পের ইরিগেশন স্কিম চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া ডিএই দিনাজপুর আঞ্চলিক অফিসের জন্য ৫ তলা ভবনের ডিজাইন ও প্রাক্কলন শেষ হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বানের জন্য বিড ডকুমেন্টস আইডিবিতে অনাপত্তি গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইডিবির অনাপত্তি পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হবে।
ইরিগেশন স্কিম ও দিনাজপুর আঞ্চলিক অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ন্যূনতম ২ বছর সময় আবশ্যক। প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরিগেশন স্কিম, দিনাজপুর আঞ্চলিক অফিস নির্মাণ ও লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ৯৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক সভাকে জানান যে, ডিএই খাতের প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী মোট বরাদ্দ ১১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার মধ্যে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট খরচ ৭৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বাকি ৪০ কোটি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক (এলজিইডি খাত) সভায় জানান যে, অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সব স্কিম নানাবিধ কারণে হুবহু গ্রহন করা সম্ভব হয়নি। ছোটখাটো কিছু সংশোধন এবং দিনাজপুর ডিএই আঞ্চলিক অফিস ভবন নির্মাণকাজের ডিজাইন পরিবর্তন ও দুই তলার পরিবর্তে ৫ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় ভবনটির প্রাক্কলিত মূল্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা হয়েছে। এ সমস্ত পরিবর্তনজনিত কারণে ডিপিপি সংশোধন করা প্রয়োজন।
প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি ছাড়া ১ বছর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আইডিবির অনুমোদন গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে ডিপিপি সংশোধন করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
