বাংলাদেশে বৈষম্য বেড়েছে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০৯ এএম

দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়লেও তিনটি দেশের বৈষম্য গত আড়াই দশকে ব্যাপক বেড়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। বৈষম্য বাড়তে থাকা অপর দুই দেশ হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ‘সাউথ এশিয়াস পাথ টু রেজিলিয়েন্ট গ্রোথ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

করোনা পরের সময় বিবেচনা করে প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এ প্রবন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির ধারা ও ইতিহাস, বৈষম্য, করোনার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অপর তিন দেশ ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালে বৈষম্য কমেছে।

তবে বৈষম্য বাড়লেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেশ উল্লেখযোগ্য। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি তিনগুণ বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এশিয়ার গড় হার থেকে কম। ১৯৯০-এর দশক  থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। ২০০০ ও ২০১০ দশকের প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত হয়। এদিকে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্য বেড়েছে বাংলাদেশে। ১৯৯১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কিছু অর্জনের প্রশংসা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেবল বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ২০১৯ সালের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ কভিড মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালে স্বাধীনতা লাভের পরপরই শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু জিডিপি ভারতের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এরপর ১৯৭০-এর দশকে মালদ্বীপ ও ভুটান বাজার উদারীকরণ থেকে লাভবান হয়। সেই সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মাথাপিছু জিডিপি স্থিতিশীল ছিল। এরপর ১৯৮০-এর দশকে ভারত বাজার উদারীকরণ কর্মসূচি হাতে নেয় এবং ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটে। ফলে ২০০০-এর দশকে ভারত এবং ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বেড়ে যায়। অর্থাৎ বাজার উদারীকরণের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির হারের সম্পর্ক আছে।

উল্লিখিত দেশের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই সময়ে দেশগুলোর পণ্য ও সেবা রপ্তানির হারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে জিডিপি ও রপ্তানির অনুপাত চীন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে কম। এসব দেশের প্রবৃদ্ধিতে রপ্তানি খাতের বড় ভূমিকা ছিল। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপি রপ্তানির অনুপাত গত কয়েক দশকে কমেছে। ১৯৯৫-৯৯ সালে শ্রীলঙ্কার জিডিপি-রপ্তানির অনুপাত ছিল ৩৬ শতাংশ, কিন্তু ২০১৫-১৯ সালে তা নেমে আসে ২২ শতাংশে। একই সময়ে নেপালের জিডিপি-রপ্তানির অনুপাত ২৪ শতাংশ  থেকে কমে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কিছু দেশের উৎপাদনশীল খাতের সংকোচন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানি কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো উন্নত দেশগুলোর রপ্তানি নীতির পরিবর্তন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়ার  তৈরি পোশাক খাত যে কোটাসুবিধা পেত, তা ১৯৯৪-২০০৫ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তখন কম্বোডিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম এই বাজারে প্রবেশাধিকার পায়। ২০০০ সালের পর পোশাকের বাজারে মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বাজার হিস্যা কমে যায়। তবে এই অঞ্চলের মধ্যে পোশাকের বাজারে কেবল বাংলাদেশেরই হিস্যা বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ছাড়া আর কোনো দেশ উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক রপ্তানির দিকে যেতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত