গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে মিঠুন চক্রবর্তী ও দেব অভিনীত নতুন সিনেমা ‘প্রজাপতি’। কিন্তু মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেব, মিঠুনরা চেষ্টা করেছিলেন ছবিটি কলকাতার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাক। কিন্তু নন্দন কর্তৃপক্ষ সেই সুযোগ দেয়নি নির্মাতাদের। তাই এ নিয়ে কার্যত ক্ষোভ দেখা দেয় চিত্রনির্মাতা, মিঠুন ও দেবের মনে। তবু তারা এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে এ নিয়ে গত শনিবার মুখ খুলেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন, মিঠুন চক্রবর্তী বিজেপি করেন বলেই দেবের সঙ্গে মিঠুনের অভিনীত ‘প্রজাপতি’ মুক্তি দেওয়া হয়নি নন্দনে। শুধু তাই নয়, এবারের কলকাতার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মিঠুন চক্রবর্তীকে। অথচ মিঠুনই হলেন এই বাংলার একমাত্র সুপারস্টার! মিঠুন চক্রবর্তী একসময় তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য থাকলেও পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে দেব রয়েছেন তৃণমূলেই। তিনি এখনো দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য তৃণমূলের সংসদ সদস্য রয়েছেন। দিলীপ ঘোষের এ মন্তব্যের পর তৃণমূল নেতা ও কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম গত রবিবার জানিয়ে দেন, নন্দনে কোনো ছবি দেখাতে হলে প্রেক্ষাগৃহ আগে থেকে বুক করতে হয়। কাজটা করতে হয় ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এই বুকিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো হাত নেই। মিঠুন চক্রবর্তী রয়েছেন বলে প্রজাপতি শো পায়নি, এটা ঠিক নয়। ওই ছবিতে তো দেবও রয়েছেন। হতে পারে ‘প্রজাপতি’র জন্য আগে চিঠি দেওয়া হয়নি। অন্য কেউ আগে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দেব বলেছেন, নন্দনে শো পাওয়া যায়নি বলে আমার দুঃখ নেই। বিষয়টি আসলে আলাদা। আসলে নন্দনে যে টাকায় ছবি দেখা যায়, তাতে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ে না। তাই আমার ছবি সেখানে মুক্তি পেলে মধ্যবিত্ত দর্শকের জন্যই সুবিধা হতো। দেব এ কথাও বলেছেন, ‘আমি দেব হয়েছি সিনেমার জন্য, রাজনীতির জন্য নয়। আমি সিনেমার মধ্যে রাজনীতি বা রাজনীতির মধ্যে সিনেমা খুঁজে বেড়াই না। এখানে এ বিষয় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। আমি ছবি করার জন্য কোনো দিন রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করিনি। আগামী দিনেও আমি ছবির প্রয়োজনে অভিনেতা অথবা প্রযোজক হিসেবে মিঠুনদার সঙ্গে কাজ করে যাব।’
×
