সিরিয়াল ছাড়া রোগী দেখবেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩০ এএম

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আজ বুধবার থেকে রোগী দেখবেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করা রোগীসহ এখন সাধারণ রোগীরাও নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পারবেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক বা কনসালট্যান্ট চিকিৎসকরা ১৪ বিভাগের রোগী দেখবেন।

বিভাগগুলো হলো জেনারেল শিশু, অবস অ্যান্ড গাইনি, অফথালমোলজি (চক্ষু বিভাগ), বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি, নেফ্রোলজি (কিডনি), ইউরোলজি, কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি (থোরাসিক সার্জারিসহ), সার্জিক্যাল অনকোলজি, অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড ট্রমা, হেপাটোলজি (লিভার), গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড প্যানক্রিয়েটিক সার্জারি বিভাগ।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কনসালটেশন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন করেন। এই সেবার মধ্য দিয়ে সীমিত আকারে শুরু হলো দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এক ছাদের নিচে সর্বাধুনিক বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দিতেই এই হাসপাতাল। ১৩ তলাবিশিষ্ট ৭৫০ শয্যার হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। জরুরি বিভাগে রয়েছে ১০০টি শয্যা। এ ছাড়া, হাসপাতালে রয়েছে ভিভিআইপি, ভিআইপি কেবিন। ডিলাক্স শয্যা ২৫টি। এখানে অত্যাধুনিক সব ডায়াগনস্টিক সুবিধাও রাখা হয়েছে। রয়েছে পাঁচটি স্পেশালাইজড সেন্টার। জরুরি বিভাগ, কার্ডিয়াক সেন্টার, লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপন ইউনিট এবং মা ও শিশু ইউনিট। এ ছাড়া রয়েছে সর্বাধুনিক রোবটিক সার্জারি। হাসপাতালে রোগী ভর্তিসহ চিকিৎসাসেবা শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এর আগে গতকাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের রোগী দেখা কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক যাত্রা শুরু করল হাসপাতালটি।

প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রোগী দেখার ব্যাপারে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন থেকে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখাতে পারবেন। এখনো হাসপাতালের রোগী ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিটা শুরু করতে পারিনি। সে জন্য রোগীরা সরাসরি এখানে এসে রেজিস্ট্রেশন করে চিকিৎসক দেখাতে পারবেন। আগে থেকেই কোনো সিরিয়াল দিতে হবে না এটাই স্পেশালাইজড হাসপাতালের বৈশিষ্ট্য। রোগীরা এলে হাসপাতাল থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে সেদিনই কতক্ষণ পর তিনি রোগী দেখাতে পারবেন। এ জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাপক দেখাতে ৬০০, সহযোগী অধ্যাপক ৫০০ এবং সহকারী অধ্যাপক বা কনসালট্যান্টকে ৪০০ টাকা ফি দিতে হবে।’

এই পরিচালক আরও জানান, পুরোপুরি চালু হলে এই হাসপাতালে শুধু রেফার্ড রোগী চিকিৎসা পাবেন। তবে এখন যেকোনো রোগী এলেই তিনি চিকিৎসক দেখাতে পারবেন। শুধু রেফার্ড রোগীর বিষয়টি কয়েক দিন পর থেকে চালু হবে। তবে এখন রেফার্ড রোগীরা অগ্রাধিকার পাবেন। ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পন্ন হলে তখন রোগীদের অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সেই তারিখ ও সময় অনুযায়ী এসে চিকিৎসক দেখাতে পারবেন।

পরিচালক বলেন, রোগীরা সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সেবা পাবেন। প্রত্যেক রোগীকে চিকিৎসকরা ১০-১২ মিনিট সময় নিয়ে দেখবেন। সে হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় কোনো চিকিৎসক ছয়জনের বেশি রোগী দেখবেন না। এতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাবেন।

জার্নাল অফিসের উদ্বোধন : গতকাল বিএসএমএমইউর বেতার ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অফিসের উদ্বোধন করেছেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এখানে জার্নালের নিজস্ব কোনো কার্যালয় ছিল না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যগবেষণায় সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গবেষণায় বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যগবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি ২০২৩ সালের জুনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল ইনডেক্সিং হয়ে যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত