স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন

দেশে ৩ কোটি মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫৭ এএম

দেশে তিন কোটি মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ জন্য উন্নত চিকিৎসা জরুরি। আমরা দেখছি এখন মানসিক স্বাস্থ্য বাজেটেও ঘাটতি। এটি কীভাবে বাড়ানো যায় চেষ্টা করা হবে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল পরিকল্পনা ২০২০-৩০ অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ জনবল বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকার নানামুখী ব্যবস্থা নিয়েছে। পাবনা মানসিক হাসপাতালকেআরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সেলিং করা, প্রায় ২০০ উপজেলায় এনসিডি কর্নার রয়েছে, সেখানেও এ কাউন্সেলিং করা হয়। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সচেতনতায়ও এখনো নানা গ্যাপ রয়েছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘মানসিক সমস্যায় বিশ্বে বহু লোকের প্রাণহানি ঘটে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। আর বাংলাদেশের ১৮ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক বা তিন কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে এ সমস্যায় ভুগছেন। যা অন্যান্য অনেক রোগেও এমনটা হয় না। আক্রান্ত এসব রোগীর বড় একটি অংশ শিশু।’

অনুষ্ঠানে সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘আজ গর্ব করে বলতে হয় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাংলাদেশের একটি কর্মকৌশল আছে, একটি আইন আছে। কিন্তু সবাই এগিয়ে না এলে, কাজ না করলে, এটি এগোবে না। সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। জাতি হিসেবে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি। সেখান থেকে উন্নত দেশের কাতারে এসেছি, তাহলে কেন আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের মতো জায়গায় এগোতে পারব না? নানা পরিকল্পনা আমরা করেছি। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটা উন্নত পরিবেশ দরকার। শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাইলেই হবে না, আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে।’

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি করতে চাইলে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের ৬০ ভাগই খরচ হচ্ছে ট্রেনিংসহ অন্যান্য কাজে। তাই বরাদ্দ বাড়ানো খুবই জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি ইনস্টিটিউট তৈরির পরিকল্পনা আমাদের আছে। যেখানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের ট্রেনিং দেওয়া হবে। ২০২০ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী অপারেশন প্ল্যান তৈরি হয়েছে। আট বিভাগে যে নতুন মেডিকেল কলেজ হচ্ছে সেখানেও মানসিক স্বাস্থ্য রাখা হয়েছে।’

জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ কর্মকৌশল বাস্তবায়নে একটা বডির প্রয়োজন। যেটি বিএমডিসির মাধ্যমে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শুধু স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ নয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দরকার। কিন্তু এগুলোতে এখনো ঘাটতি রয়েছে। গত দুই বছরের আত্মহত্যা বেড়েছে। কীভাবে এটি রোধ করা যায় সেই কৌশল এতে রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত