শীত এলেই পিঠাপুলি, খেজুরের রসের পায়েস, বিভিন্ন মিষ্টান্নসহ উপাদেয় সব খাবারের ধুম পড়ে যায়। আর এ ধরনের খাবার অন্য খাবারের তুলনায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়। এ সময়টায় মানুষের সর্দি-কাশি, টনসিলাইটিস, নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, অ্যাজমা বা শ্বাস-কষ্ট,
আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথা, হার্টের সমস্যার প্রকোপ বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে এসব রোগের জটিলতা বেড়ে গিয়ে ভোগান্তির পালা শুরু হয়। তাই এ সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশি সচেতন হওয়া উচিত।
তীব্র শীতে বিশেষ করে ভোরের দিকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। তাই কুয়াশার মধ্যে না হেঁটে, রোদে হাঁটাহাঁটি করা উচিত। সকালের হালকা মিষ্টি রোদে আপনার দেহের সঙ্গে মনও হয়ে উঠবে চনমনে। বিকেলে বা অন্য যেকোনো সময় হাঁটতে পারেন। প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও হাঁটুন। তবে একদম খালি পেটে বা ভরা পেটে হাঁটা উচিত নয়। মিষ্টিজাতীয় খাবার, গুড়, চিনি বা রসের তৈরি পিঠাপুলি, পায়েস খাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। মিষ্টি পায়েস, পিঠাপুলি বা মিষ্টান্ন যদি একান্তই খেতে মন চায় তবে চিনি বা গুড়ের বদলে কৃত্রিম মিষ্টকারক যেমন সুক্রোলোজ, এসপার্টেম প্রভৃতি ব্যবহার করুন। কোনো উৎসব বা দাওয়াতে অংশগ্রহণ করলে ডেজার্ট, কোল্ড ড্রিংকস বাদ দিন। বেছে নিন সালাদ, সবজি, রোস্ট, গ্রিলডজাতীয় খাবার। মনে রাখবেন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা মানে আপনার লাভ। এ সময়টায় বাজারে নানা রকমের সুস্বাদু ও খাদ্য উপাদানে ভরপুর শাকসবজি পাওয়া যায়। বেশি করে শাকসবজি ও ফল খান। এগুলোর মধ্যে উপস্থিত ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের সজীবতা বজায় রাখে, খাদ্য হজমে সাহায্য করে, শরীরের নিস্তেজ ভাব কাটায়। টাটকা ফল ও সবজিতে রয়েছে বায়োটিন, যা ত্বক ও চুল ভালো রাখে। পান করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি।
মারাত্মক পরিণতি এড়াতে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন পা পর্যবেক্ষণ করুন। ত্বকে কোনো ফাটা, ক্ষত, রঙে পরিবর্তন বা ব্যথা আছে কি না লক্ষ করুন। সঠিক মাপের জুতা পরুন, পা শুষ্ক রাখুন। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, কিন্তু পায়ের আঙুলের ফাঁকসমূহে অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না।
অনেকের ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ ইত্যাদি থাকে। যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে, এ সময়টায় তাদের আরও সাবধান হতে হবে। কেননা, শীতের কুয়াশা, ধুলাবালি বা বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের রেণু শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। তা ছাড়া ঠা-াজনিত অসুখ থেকে বাঁচতে আরামদায়ক শীতের কাপড় পরা জরুরি।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন, জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ এবং কায়িক পরিশ্রম এই তিনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করে ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রা নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। তাহলে শুধু এই শীতেই নয়, ডায়াবেটিস নিয়ে সব সময় থাকতে পারবেন সুস্থ।
