২০২২ সিনেমা শিল্পের জন্য সম্ভাবনা জাগানিয়া বছর। কিছু সিনেমা ভালো ব্যবসা করেছে। কিছু সিনেমা পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সেই সঙ্গে বেড়েছে জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমা নির্মাণ ও তা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ। তারই ধারাবাহিকতায় বছরের শেষ সপ্তাহে (৩০ ডিসেম্বর) প্রেক্ষাগৃহে আসছে দুটি সিনেমা। একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র, অন্যটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি মাল্টিপ্লেক্সে হয়ে গেল আওয়াল রেজার শিশুতোষ সিনেমা ‘মেঘ রোদ্দুর খেলা’র প্রিমিয়ার শো। শিশু-কিশোরদের উল্লাসে সেই পরিবেশ হয়ে উঠেছিল অন্য রকম। কারণ দীর্ঘ শূন্যতার পর দেশে নির্মিত হয়েছে কিশোর চলচ্চিত্র ‘মেঘ রোদ্দুর খেলা’। প্রিমিয়ার শোতে নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। আওয়াল রেজা দারুণ কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ছবিটিতে। যার মধ্যে অন্যতম তারুণ্যের নতুন কিছু করার উদ্যমতা, বাবা-মায়ের ভূমিকা, জঙ্গিবাদ ও বিদেশে দেশি সম্পদ পাচার। শুদ্ধ ভাষার সংলাপ প্রক্ষেপণ কানে আরাম দেয়। নির্মাতা শিশুতোষ চলচ্চিত্রটিকে নিতান্তই শিশুদের জন্যই বানিয়েছেন। বড়দের কথা মাথায় রাখলে হয়তো আরও কিছু দিকে তিনি দৃষ্টি দিতেন। ছবির কাহিনীতে দেখা যায়, ১৫ বছরের রোমাঞ্চপ্রিয় কিশোর রায়ান একদিন এক ওয়েবসাইটে খুঁজে পায় এক দারুণ তথ্য। বাংলাদেশে দক্ষিণে এক গহিন দ্বীপে গবেষকরা নতুন এক প্রজাতির শামুক খুঁজে পেয়েছেন, যার খোলসের মধ্যে সঞ্চিত রয়েছে ইউরেনিয়াম। রায়ান স্থির করে ইউরেনিয়ামবাহী আশ্চর্য শামুকের সন্ধানে দুর্গম দ্বীপে গহিন জঙ্গলে অভিযানে যাবে। এরপর নিজেরাই একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দাঁড় করিয়ে ফেলবে। ছুটে আসে প্রাণের বন্ধু সানজিনাসহ দুঃসাহসী আরও ছয় কিশোর-কিশোরী। নতুন প্রজন্মের সাত খুদে যোদ্ধা একের পর এক বাধাবিপত্তি কাটিয়ে ছুটে যায় গহিন দ্বীপে আশ্চর্য শামুকের সন্ধানে।
অন্যদিকে বীরাঙ্গনাদের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘বীরাঙ্গনা ৭১’। এম সাখাওয়াৎ হোসেন পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন শিরিন শিলা, শাহেদ শরিফ খান, মুনমুন আহমেদ, ফজলুর রহমান বাবু, ঝুনা চৌধুরী, ইমতু রাতিশ, প্রাণ রায়, বড়দা মিঠু প্রমুখ। গত বুধবার ছবিটির মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিরিন শিলা বলেন, ‘এটা আমার পরম সৌভাগ্য যে একজন বীরাঙ্গনার ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। বীরাঙ্গনা চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। ছবির গল্পটি খুবই মর্মস্পর্শী ও জীবনঘনিষ্ঠ। আশা করি দর্শক পছন্দ করবেন।’ শাহেদ শরিফ খান বলেন, ‘দর্শককে হলে গিয়ে ছবিটি দেখার অনুরোধ করছি। আশা করছি একটি ভালো সিনেমা দেখতে পাবেন। নির্মাতা খুব সুন্দর করে একাত্তরের সেই ভয়াল দিনগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ ও বীরাঙ্গনাদের গল্প তুলে আনতে পেরেছেন।’ মুনমুন আহমেদ বলেন, ‘বিজয়ের মাসে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের এ সিনেমাটিতে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লাগছে। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা নির্মাণে আগ্রহী হয় না দর্শক দেখবে না বলে। তবে প্রযোজক-পরিচালক চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণে এগিয়ে এসেছে।’ ঝুনা চৌধুরী বলেন, ‘অনেক চড়াই-উতরাই পার করে আমাদের চলচ্চিত্রের নবজাগরণ হয়েছে। এখন অনেক ভালো ভালো সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের এই সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ। আমাদের চলচ্চিত্র আমাদেরই এগিয়ে নিতে হবে।’ অতিথি হয়ে এসেছিলেন বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াৎ। তিনি বলেন, ‘এই বিজয়ের অর্জনে যা ঘটেছিল তার প্রধান ছিল নারীদের সম্মান। সেই বীরাঙ্গনা নিয়ে এই সিনেমা। এসব সিনেমা নির্মাণ করার জন্য খুব কম লগ্নিকারক থাকে। সাধারণত মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা অনুদানে নির্মিত হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
