ইরানে চলমান বিক্ষোভে জড়িত থাকার দায়ে কমপক্ষে একশ ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে বা তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারীও আছেন যারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
তবে দেশটিতে আসলে মৃত্যুদণ্ডের সাজার মুখে যারা আছেন, তাদের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া কঠিন। কারণ এসব পরিবারকে চুপ থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) নামের একটি সংস্থা এমন দাবি করেছে। বিবিসি বাংলার খবর।
চলতি মাসেই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিক্ষোভকারীদের বিচারকে ‘প্রহসনের বিচার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
মহসেন শেকারি ও মাজিদরেজা রাহনাভার্দ উভয়েই ২৩ বছর বয়সী। তাদের বিরুদ্ধে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে শত্রুতা’র অভিযোগ এনে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে বিপ্লবী আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর সাকেজের বাসিন্দা কুর্দি বংশোদ্ভূত নারী মাহসা আমিনি (২২) রাজধানী তেহরানে বেড়াতে আসেন। সে সময় তাকে সঠিক নিয়মে হিজাব দিয়ে মাথার চুল ঢেকে না রাখার অভিযোগে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে একটি বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়ার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি তিনদিন কোমায় থেকে অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। প্রায় তিন মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে।
আইএইচআরের হিসাবে এ পর্যন্ত বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় অন্তত ৪৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৬৪ জন শিশুও রয়েছে।
সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে অন্তত একশ ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে তাদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি হয়তো কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে বা পরিবার থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, সাজার মুখে থাকা সবাই আইনজীবী নিয়োগ, বিচারের যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ‘অনেক ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ করতে পেরেছেন বা তাদের ঘটনাগুলো অন্য কারাবন্দি বা মানবাধিকারকর্মীদের জানিয়েছেন। তাদের সবাইকে স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।’ তাদের মধ্যে একজন হলেন ২২ বছর বয়সী মোহাম্মদ ঘোভাদলু। সুপ্রিম কোর্টও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। তার বিরুদ্ধে তেহরানে একটি সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আবার পাঁচজন নারী যারা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে আছেন, এর মধ্যে মজগান কাভৌসি কুর্দি ভাষা শিক্ষক এবং মানবাধিকারকর্মী। তার বিরুদ্ধে ‘করাপশন অফ আর্থ’ অভিযোগ আনা হয়েছে। একজন কৌঁসুলি বলেছেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে মানুষকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মিস কাভৌসির বিরুদ্ধে।
‘মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বা কারও কারও দণ্ড কার্যকর করে (কর্তৃপক্ষ) মানুষকে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করতে চায়’ আইএইচআর পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে।
