লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। গুলিতে আহত হয়েছে আরও দুজন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দোলাপাড়া সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলো উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে নাজির হোসেন ওরফে মংলু (৪০) ও একই উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে সাদিক হোসেন (২৩)। গুলিবিদ্ধ দুজন হলো পূর্ব ফকিরপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাজু হোসেন (২৫) ও একই গ্রামের মজিদ (২৯)।
তারা বর্তমানে রংপুরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাজির হোসেন, সাদিক হোসেনসহ ১০-১২ জনের একটি দল দোলাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের বড় মধুসূদন গ্রাম থেকে অবৈধ পথে গরু আনতে যায়। গরু নিয়ে ফেরার সময় সীমান্তের ৮৮৮ মেইন পিলারের কাছে শূন্যরেখায় আসার পর ভারতের বড় মধুসূদন বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের দেখতে পায়। বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই নাজির ও সাদিক নিহত হয়। অন্য দুজন আহত হয়। পরে সঙ্গীরা হতাহত চারজনকে বাড়ি নিয়ে আসে।
রংপুর ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তে দুটি লাশ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএসএফকে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। দ্রুত সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে নিহত সাদিকের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির ক্ষোভ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায়ই বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে। আর আমরা মুখ বন্ধ করে সহ্য করে আসছি।’
