মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যাত্রা শুরু নতুন পাঠ্যক্রমের

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৩৫ এএম

২০০৯ সাল থেকে প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থীকে বছরের প্রথম দিনে উৎসবের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই। ইতিমধ্যে এই উৎসব সার্বজনীনে রূপ নিয়েছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি স্কুলেই নেওয়া হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। আজ রবিবার দেওয়া হচ্ছে নতুন বই। বই উৎসবের সঙ্গে দেশে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন কারিকুলামেরও।

ইতিমধ্যে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বই উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। আজ ঘরে ঘরে সেই উৎসব গিয়ে পৌঁছবে। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজধানীর বাইরে গাজীপুরের কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বই উৎসবের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। এ ছাড়া দেশের জেলা, উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ের সব স্কুলের উৎসবেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেবেন।

জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কিছু বই এখনো বাকি আছে, যা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে আমরা আশা করছি। দেশের সব উপজেলায়ই বই পৌঁছানো হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর হাতেই নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। সাধারণত প্রথম দিনেই সবাই স্কুলে আসে না। তাই যারা আসবে তাদের সবাই বই পাবে। কাগজ সংকটের মধ্যেও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, যত বেশি সম্ভব বই স্কুলে পৌঁছানোর। আর এতে সকলেই আন্তরিক ছিলেন।’

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৩৪ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে প্রায় ৬৬ লাখ ২৯ হাজার বই, প্রাথমিকে ৯ কোটি ৬৬ লাখ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ১২ হাজার ১৭৭টি বই বিতরণ করা হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ২৪ কোটি ৬৩ লাখ কপি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। তবে গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিকে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্রাথমিকে প্রায় ৭১ শতাংশ বই স্কুল পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আজ বই উৎসবের সঙ্গে দেশে যাত্রা শুরু করছে নতুন কারিকুলাম। তবে এ বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলামের বই দেওয়া হবে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণি এ শিক্ষাক্রমের আওতায় আসবে। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণি যুক্ত হবে। ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণি যুক্ত হবে। ফলে এ বছর থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন বই নিয়ে উৎসাহ ও কৌতূহল আগের চেয়েও বেশি।

জানা যায়, নতুন কারিকুলামে সমষ্টিক মূল্যায়নের চেয়ে শিখনকালীন মূল্যায়নে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের এত বেশি পরীক্ষায় বসতে হবে না। নতুন কারিকুলামের আওতায় ২০২৪ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিভাগ বিভাজন উঠে যাচ্ছে। অর্থাৎ নবম শ্রেণিতে ওঠার পর একজন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ বেছে নিতে হবে না। একজন শিক্ষার্থীকে সব বিষয়ই পড়তে হবে। একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর শিক্ষার্থীরা কোন বিভাগে পড়বে তা বেছে নেবে।

নতুন কারিকুলামে প্রাথমিকে পড়তে হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিল্পকলা। মাধ্যমিকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্মশিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়তে হবে। তবে সব বিষয়েই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে হবে না। আর যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরীক্ষা হবে সেখানেও কিছুটা অংশ থাকবে শিখনকালীন মূল্যায়ন আর কিছুটা অংশ থাকবে সমষ্টিক মূল্যায়ন।

শিক্ষকদের নতুন কারিকুলাম সম্বন্ধে ধারণা দিতে ইতিমধ্যে এক দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর ৬, ৭, ১৩, ১৪ ও ২১ জানুয়ারি সব শিক্ষককে সরাসরি নতুন কারিকুলামের ওপর পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত