মন্দার বাজারে বিও কমেছে ১ লাখ ৭৩ হাজার

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০২ এএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা চলছে। বিদেশি মুদ্রার সংকটে ডলারের দাম বাড়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়বেÑ এমন পূর্বাভাসে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। সাইড লাইনে ফিরে গেছেন অনেকে। বিপুল লোকসানে পড়ে অনেকেই (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব বন্ধ করে পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদায়ী ২০২২ সালে বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি। বিও হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি বিওধারীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৯টি, যা গত বছরের শেষ কার্যদিবস ২৯ ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৩০১টিতে। এতে এক বছরের ব্যবধানে বিওধারীর সংখ্যা কমেছে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম কার্যদিবস ২ জানুয়ারি সিডিবিএলে পুরুষ বিওধারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮২৬টি, যা গত ২৯ ডিসেম্বরে কমে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০টিতে। এ সময়ে পুরুষ বিওধারীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৩৬টি বা ৮ শতাংশ। এ সময়ে নারী বিওধারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বছরের শুরুতে নারী বিওধারীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭ হাজার ৩৬১টি, ডিসেম্বরের শেষ কার্যদিবসে কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ২৪টিতে। এক বছরের ব্যবধানে নারী বিওধারীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৩৭টি বা ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইপিও কোটা পেতে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া বছরের পর বছর ধরে টানা লোকসানে পড়েও অনেকে বাজার ছেড়েছেন। তবে এ সময়ে নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ২ জানুয়ারি নিষ্ক্রিয় বিও হিসাব ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ২০৮টি, যা বছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজারটিতে। এতে দেখা যায়, বছর শেষে নিষ্ক্রিয় বিওধারীর সংখ্যা কমেছে ৩৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। একই সময়ে শূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বছরের শেষ কার্যদিবসে অর্থ ছাড়া বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭০টি, যা বছরের শুরুতে ছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৬২টি।

২০১৮ সালের পর থেকেই পুঁজিবাজারে বিদেশিরা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তবে গত বছর ডলারের বিপরীতে টাকার বড় অঙ্কের অবমূল্যায়নের পর থেকে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের হার আরও বেড়েছে। তবে মৌলভিত্তির বেশিরভাগ কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকায় বিদেশিরা চাইলেও শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালের শেষ কার্যদিবস ২৯ ডিসেম্বর বিদেশি বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ১১৭টিতে, যা বছরের শুরুতে ছিল ৮৬ হাজার ৩৬১টি। এতে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি বিওধারীর সংখ্যা কমেছে ২৩ হাজার ২৪৪টি বা ২৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত