তিন দিনের ব্যবধানে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছে। খ্রিস্টীয় নতুন বছরের প্রথম প্রহর গত শনিবার রাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলেছে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে বিএসএফ।
নিহত যুবকের নাম বিপুল হোসেন (২০)। সে পাটগ্রাম ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীর সহায়তায় বিপুলসহ ১০-১২ জনের একটি দল বুড়িমারী ইউনিয়নের ইসলামপুর সীমান্তের ৮৪৩ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে গরু আনতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এ সময় ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিএসএফের ছোড়া গুলি এসে বিপুলের বুকের ডান পাঁজরে লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সঙ্গীরা উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। সীমান্তে বিপুল নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান মোকছেদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তার বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখে এসেছি।’
পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য বিপুলের মরদেহ বাড়ি থেকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, চ্যাংড়াবান্ধা বিএসএফ জানিয়েছে যে, এখানে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। বিএসএফ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে এ কথা ঠিক নয়। তারপরও বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে করে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে দ্বিগুণ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় আরও দুজন। তারা বর্তমানে রংপুরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানা গেছে।
