জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রুনা খান দীর্ঘ বিরতির পর আসছেন বড়পর্দায়। শিগগিরই মুক্তি পাবে তার সিনেমা ‘একটি না বলা গল্প’। ব্যক্তিগত কারণেও এখন বহুল চর্চিত এই তারকা। অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে এ যেন এক নতুন রুনা। তার প্রতিটি নতুন ছবি দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে নেট নাগরিকদের। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
সম্প্রতি আপনি শরীরের অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে নতুন রূপে ধরা দিয়েছেন। নতুন রুনাকে কীভাবে দেখছে দর্শক...
এই উপমহাদেশে একটা মনোভাব প্রতিষ্ঠিত, সেটি হলো- নারী তুমি কুড়িতেই বুড়ি। আদতে এ দেশের নারীরা চল্লিশে রুনা খানের মতো দেখতে হয়। আমি সামনের বছরেই চল্লিশে পা দেব। চল্লিশে যদি আমাকে এমন দেখায় এটা কি আমার অপরাধ? শুধু আমি নই, আমাদের দেশের চল্লিশ বছরের যে কোনো অভিনেত্রীকে যদি দেখতে দারুণ লাগে, তাহলে তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের নিচের কমেন্টগুলো একবার চোখ বুলিয়ে দেখবেন। সেখানে কেউ লিখবে তুমি বুড়ি, তুমি কেন সাজবে? কোথায় লেখা আছে যে, চল্লিশ কিংবা আশিতে এসে সাজা যাবে না! কোথা থেকে শিখেছেন বয়স বাড়লে আর কাউকে সুন্দর দেখানো যাবে না। এটা শুধু নির্মাতা, অভিনেতা কিংবা নির্দিষ্ট পেশার মানুষের জন্য বলছি না। এটা আমাদের দেশের মানুষের সামগ্রিক মানসিকতা। তাদের কাছে, নায়িকা মানেই আঠার বিশ বছরের কোনো মেয়ে। আবার এই আমরাই আবার পাশের দেশের ক্যাটরিনা, কারিনা, দীপিকাকে দেখে হা-হুতাশ করি। কত প্রশংসায় ভরিয়ে দিই। তাদের বয়সের খবর কেউ রাখে না!
আপনার অভিনীত চরিত্রগুলো পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। চরিত্র হয়ে ওঠার প্রস্তুতি কী ধরনের?
আমি বরাবরই বলি, আমি ডিরেক্টর্স আর্টিস্ট। এটা শুধু বলবার জন্য বলি না, আমি মনেপ্রাণে ধারণও করি। ফলে চরিত্রটি কীভাবে প্রস্তুত করব তার জন্যও আমি পরিচালকের পরামর্শ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখি। কারণ একটি কাজ করবার সময় পরিচালকই সবচেয়ে ভালো জানেন যে চরিত্রটিকে তিনি পর্দায় কীভাবে দেখতে চাচ্ছেন। তিনি যেভাবে আমাকে বুঝিয়ে দেন আমি সেটাই নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। এজন্যই যখন আমার কোনো কাজ বা চরিত্র দর্শকের ভালো লাগে, তখন আমি সবচেয়ে বড় কৃতিত্বটা পরিচালককেই দিয়ে থাকি।
পরিচালকের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া কী ধরনের হয়?
এটাই তো অভিনেতাদের কাজ। নইলে আমি কেন অভিনেতা। যে মানুষটি আমি নই, সেই মানুষটি হয়েই আমাকে পর্দায় আসতে হবে। এই চর্চা এক একজনের এক এক রকম। আমি অভিনেতা হতেই চেয়েছি এক জীবনে অনেক জীবনযাপনের জন্য। ধরেন, আমি একজন চিকিৎসকের চরিত্র পেয়েছি, আমি চিকিৎসক নই, কিন্তু কিছুটা হলেও তো চিকিৎসকের জীবন সম্পর্কে জেনে সেভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয়। হয়তো পুরোপুরিভাবে নয়, তবে সেই চরিত্র করবার জন্য আমি যতদিন চেষ্টা করে সেটিকে প্রস্তুত করি, কিংবা পর্দায় যতদিন সেটিকে ফুটিয়ে তুলি ততদিন অন্তত আমি সেই মানুষটির জীবনযাপন করি। তাইতো কখনো আমি ডাক্তার, কখনো গৃহকর্মী, কখনো শিক্ষক, কখনো ভিক্ষুক, গার্মেন্টসকর্মী, কখনো করপোরেট লেডি ইত্যাদি। এটাই অভিনেতার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও উপভোগ্য বিষয়। যেমন, ব্যক্তি রুনা খান শাড়ি পরতে খুব পছন্দ করে। কিন্তু যে চরিত্র করব সে যদি ওয়েস্টার্ন বা বোরখা পরতে পছন্দ করে আমি সেটাই করব।
কিন্তু অনেক বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীর কিছু ছুতমার্গ থাকে যে, তিনি নির্দিষ্ট চরিত্রের বাইরে কাজ করবেন না। আপনার তেমন কোনো গন্ডি আছে কি না?
আমার যদি গল্প এবং চরিত্র পছন্দ হয় তাহলে যে কোনো ধরনের চরিত্র আমি করতে প্রস্তুত।
সেখানে যদি সো কলড ‘সাহসী’ দৃশ্য থাকে, তাহলে?
হ্যাঁ, সেটাই বললাম। গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে আমি করতে চাই। দেখুন, অভিনেতা হচ্ছে সমাজের নানা মানুষের রিপ্রেজেন্টেটিভ। আমাদের দেশে যে ধরনের মানুষ আছে, যে ধরনের পোশাক-আশাক পরে, যে যে ভাবে কথা বলে, যে ধরনের জীবনযাপন করে সেসব নানা চরিত্রের মাধ্যমে অভিনয়শিল্পীরা তুলে ধরেন। সমাজে যেমন বোরখা পরা মেয়ে আছে, তেমনি সিøভলেস ব্লাউজ পরে, অফ শোল্ডার পোশাক পরে তেমন মেয়েও তো আছে। যে চরিত্রটি ছোট পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য, সেটি ফুটিয়ে তুলতে আমাকে তেমন পোশাকই পরতে হবে। বোরখা পরে আমি সেই কাজটি করতে পারব না। আবার যে মেয়েটি বোরখা পরে, সেখানে আমি গ্ল্যামারাস। পোশাকে পর্দায় আসতে পারব না। তার মানে এই নয় যে, অভিনয়শিল্পীরা ব্যক্তিজীবনেও তেমন হবে।
শিল্পীদের ট্রেন্ড সেটারও বলা হয়। যা সমাজে বিদ্যমান নয়, কিন্তু ভবিষ্যতে আসতে পারে সেটিও আগে থেকে শিল্পের ভাষায় বলে থাকেন। তেমন কোনো গল্প বা চরিত্র এলে কী করবেন?
এখানেও আমার একটাই বিবেচ্য বিষয়। গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে আমি যে কোনো রকমের চরিত্রে কাজ করতে প্রস্তুত। এবং নির্দিষ্ট গ-ির মধ্যে একই ঘরানার চরিত্রে বারবার কাজ করার চেয়ে যত ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজের সুযোগ পাব ততই সেই কাজের ওপর আগ্রহী হব। এতে করে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে পূর্ণ মনে হবে। অনেক ধরনের জার্নির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ওই যে বললাম, এক জীবনে বহু জীবনযাপন। যদি সেই সুযোগ হয় তাহলে আমি পৃথিবীর সব ধরনের চরিত্র করতে চাই।
জীবনের অর্ধেকটা সময় অভিনয়ের মাধ্যমেই কাটালেন। এ পর্যায়ে এসে অভিনয়কে কীভাবে দেখেন?
আমি যতদিন সুস্থ স্বাভাবিক আছি, অভিনয়ের সঙ্গেই থাকতে চাই, কাজটি এতটাই ভালোবাসি। বেশিরভাগ মানুষ নায়িকা বলতে যা বোঝে আমি সেভাবে ভাবি না। ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের চলচ্চিত্র সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’। আমার ধারণা সব বাঙালির পছন্দের চলচ্চিত্র। সেই ছবিতেও তিন প্রধান চরিত্র হচ্ছে তিন বয়সের তিন নারী। দুর্গা একজন কিশোরী, সর্বজয়া মধ্যবয়স্ক নারী আর ইন্দির ঠাকুরন বৃদ্ধা। একজন অভিনেতা হিসেবে জীবনের সব বয়সী চরিত্রকেই আমার কাছে মনে হয় নায়ক কিংবা নায়িকা।
পোশাক : ফালাক’স কালেকশন
https://www.facebook.com/falaqscollectionbd
গয়না : গয়নার মেলা
https://www.facebook.com/GoinarMela
মেকআপ : ফারিন খান বাঁধন
https://www.facebook.com/profile.php?id=100006604338871
লোকেশন : রূপায়ণ সিটি উত্তরা
ছবি : আবুল কালাম আজাদ
