বয়সভিত্তিক দলে মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন অলরাউন্ডার। ২০১৬ সালে, বাংলাদেশ সফরে আসা ইংল্যান্ড দলের জন্য তাকেই গোপন অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন জাতীয় দলের সে সময়কার কোচ চন্দিকা হাতুরুসিংহে। অভিষেকেই বাজিমাত মিরাজের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিরাজ হয়েছেন পরিণত, হাতুরুসিংহেও বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে পেশাগত জীবনে ব্যস্ত হয়েছেন অন্য অনেক জায়গায়। ২০২৩ সালে আবার হয়তো একই তাঁবুতে চলে আসতে পারেন দুজনে। রাসেল ডমিঙ্গোর বিদায়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের জায়গাটা ফাঁকা, সেখানেই শোনা যাচ্ছে হাতুরুসিংহের প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন।
বিশ্বকাপের বছরে নিজের প্রস্তুতিটা বিপিএল দিয়েই শুরু করতে চান ২০২২ সালটা দারুণ কাটানো মিরাজ। কাল মিরপুরের একাডেমি মাঠে ফরচুন বরিশালের অনুশীলন পর্ব শেষে এই অলরাউন্ডার সাংবাদিকদের জানান, ‘২০২৩-এ আমাদের সামনে বড় ইভেন্ট আছে, সেটা বিশ্বকাপ। অবশ্যই বিশ্বকাপকে ঘিরে আমাদের সব পরিকল্পনা করা হবে। আমি নিজেকে ওভাবেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করব যে, কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়। বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেক ম্যাচ আছে, সিরিজ আছে। আমরা যদি এখন থেকেই প্রস্তুতি নেই তো ভালো হবে। যে ধারাবাহিকতা নিয়ে আমরা খেলে এসেছি তা যদি ধরে রাখতে পারি করতে পারি তাহলে দলের জন্য অবশ্যই ভালো হবে।’ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি প্রসঙ্গেই চলে আসে কোচের প্রসঙ্গ। মার্চে আসতে পারেন নতুন কোচ। অক্টোবর-নভেম্বরে বিশ্বকাপ, মানে কোচের কাজ করার সময় মাস ছয়েক। তাই বিসিবি খুব সম্ভবত হাঁটছে চেনা কাউকেই কোচের দায়িত্বে বসাতে, যাতে খেলোয়াড়দের জানতে আর বাংলাদেশ দলের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়টা কম লাগে। সব মিলিয়ে হাতুরুসিংহের নাম আসছে জোরেশোরেই, মিরাজও বললেন তিনিও খুশি হবেন অভিষেকের সময়কার কোচকে ফিরে পেলে, ‘এটা তো টিম ম্যানেজমেন্টের বিষয় কে আসবে না আসবে। যেহেতু ওর (হাতুরুসিংহে) সময়ে আমার অভিষেক হয়েছিল... তবে শেষ পর্যন্ত আমাকে কিন্তু পারফর্ম করতেই হবে। আমি যদি পারফর্ম করতে না পারি তাহলে কিন্তু খেলতে পারব না যে কোচই আসুক না কেন। পছন্দ করুক না করুক সেটা ব্যাপার না। কোচ খেলোয়াড়কে পছন্দ করে যখন কেউ পারফর্ম করে। এখানে পারফর্ম করা গুরুত্বপূর্ণ যে কোচই আসুক না কেন। পারফর্ম করলে খেলতে পারব লং টার্ম, যা আমার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হবে।’
হাতুরুসিংহের ব্যাপারে কিছু খেলোয়াড়ের আপত্তি ছিল, বিশেষ করে তার কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে। মাহমুদউল্লাহকে শততম টেস্টের আগে দেশে ফেরত পাঠানো, মাশরাফী বিন মোর্ত্তুজাকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ দেওয়াসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্তই অনেককে করেছে অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে মিরাজ, সৌম্য সরকারসহ অনেককে সুযোগ দিয়েছেন বেশ কজনকে ডিঙ্গিয়ে। সবগুলো কৌশলই যে খেটেছে এমনটা বলা যাবে না; কারণ দিনশেষে হাতুরুসিংহেও তো মানুষ! তবে মিরাজ যে হাতুরুসিংহে ফিরলে খুশি হবেন এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়, কারণ মাত্রই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা মিরাজকে টেস্ট খেলোয়াড় বানিয়ে দিয়েছিলেন তো এই শ্রীলঙ্কানই। সুযোগ পেয়েই তো বাজিমাত মিরাজের।
