বিদেশে বসে দেশ বা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলে ঢাকার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ মিশন প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, যারা বিদেশে বসে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের মন্ত্রণালয় থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার মোটেও চিন্তিত নয়। সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের নিয়মেই নির্বাচন হবে। এখাবে সব দল আসলে ভালো, কেউ না আসতে চাইলে না আসবে।
ড. মোমেন বলেন, দেশে আগে ফ্রড ভোট হতো। একবার ১ কোটি ২৩ লাখ লোক ভুয়া ভোট দিয়েছে। এখন এটা বন্ধ। ফ্রডগিরি করতে পারবেন না। দেশে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। যাতে এরা ভালোভাবে নির্বাচন করতে পারে। সুতরাং সেখানে সব দল এলে ভালো। আমরা জনগণের ওপর বিশ্বাসী । জনগণ যাকে চাইবে তাকে ভোট দেব।
নতুন বছরের প্রথম দিন রবিবার বিদেশে বাংলাদেশ মিশন প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনারদের কী বার্তা দেওয়া হয়েছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিশন প্রধানদের বলা হয়েছে, কেউ যদি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেয়, আপনারা (দূতরা) চুপ করে ঢাকার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। আপনি একজন দায়িত্বশীল মানুষ। সরকার আপনাকে সর্বোচ্চ কাজ দিয়েছে। আপনি আপনার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। কেউ যদি মিথ্যা বলে, আপনি (দূত) উত্তর দেবেন, একেবারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। মন্ত্রণালয়ের হুকুমের জন্য বসে থাকবেন না। আমরা নবযুগে প্রবেশ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি আপনারা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল লোক। আপনারা (দূতরা) সেই অনুযায়ী কাজ করবেন, যেটা আপনারা ভালো মনে করেন।’
দূতদের ভাষ্য কী ছিল জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, তাদের বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বলেছেন, এতদিন ধরে তারা (দূতরা) এই প্র্যাকটিস করে এসেছেন (হুকুম দিলে রেসপন্স করা)।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি এখন থেকে আপনারা রেসপন্স করবেন এবং আমাদের জানাবেন। অনেকে আছেন মিশন প্রধানরা খারাপ কিছু হলে আমাদের জানাতে চান না। তারা লজ্জা পান। এখানে লজ্জার কোনো কারণ নেই। আমাদের সবকটি মিশন মিলেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা সবাই মিলে টিমওয়ার্ক। ভালো হোক খারাপ হোক, ঘটনা জানাতে হবে।’
বিশ্বের অন্যান্য দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা মাস দুয়েক আগে হলেও বাংলাদেশে এক বছর আগ থেকেই হইচই শুরু হয়েছে। আর একে ঢং হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে নির্বাচন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
