দীর্ঘদিনেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া ১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চারটিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে। আর দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না, তবে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে ভর্তি করতে পারবে। এ ছাড়া স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন মাস ও ছয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ছয় মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত ইউজিসির চিঠি নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ গতকাল সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারলে ফের নতুন ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হবে। এ ছাড়া যাদের তিন ও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তারাও ওই সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে তাদেরও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ইউজিসি সূত্র জানায়, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আশা ইউনিভার্সিটি এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকেই তারা আর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ঢাকার বাইরে স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকার পরও তারা রাজধানীতে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তবে তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে পারবে।
ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের চলমান কাজ সন্তোষজনক হওয়ায় তাদের তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি। বাকি ছয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ছয় মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ স্ট্যামফোর্ড আশাসহ চার
(ইউডা), গ্রিন ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি এবং পিপলস ইউনিভার্সিটি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী, একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন প্রাপ্তির ১২ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। এ সময়ের পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ অবৈধ হবে। তাই ১২ বছর পার হওয়া ২২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে গত ডিসেম্বরের মধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছিল ইউজিসি। নয়তো জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি রাখার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। গত এপ্রিলে দেওয়া এ আলটিমেটামের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় না যেতে পারায় ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বর্তমান ক্যাম্পাস মোহাম্মদপুরে, তারা নরসিংদীতে স্থায়ী ক্যাম্পাস শুরু করলেও তাতে অগ্রগতি নেই। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করলেও গুলশানেও তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস মহাখালীতে। তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ চললেও তারা সেখানে এখনো যেতে পারেনি। আশুলিয়ার বিরুলিয়াতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় রেসিডেনশিয়াল ক্যাম্পাস পরিচালনা করে। ইউজিসির তালিকায় ওই ক্যাম্পাসেরও অনুমোদন নেই।
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিনের সময় চেয়েছিল। দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি মতিঝিলে মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে শূন্য দশমিক ৭৫ একর জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের অন্য কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। নানা অনিয়মে অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কালো তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
