আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় এবং প্রয়াত নেতার গ্রামের বাড়ি ও নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
সকাল ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পক্ষে বনানী কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাক হাছান মাহমুদ বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু ছিল অপ্রত্যাশিত। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিশীলিত নেতা ছিলেন তিনি। তার লোভ-লালসা ছিল না। নতুন প্রজন্মের কাছে তার আদর্শ অনুসরণীয়।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। দলটির নেতাকর্মীরাও তাদের সঙ্গে নেই। তার প্রমাণ ১০ ডিসেম্বর ১০ লাখ মানুষের কথা বলে ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত করতে পেরেছেন তারা। বিএনপির হাঁকডাক খালি কলসি বাজার মতো। খবর বাসসের।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সৈয়দ আশরাফের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যেভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, নিজের এলাকার মানুষকে সেবা দিয়েছেন, এতে তিনি নিজেকে একটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
এ ছাড়া সৈয়দ আশরাফ স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তার বোন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্মরণ করতে গিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন এক কৃর্তিমান পুরুষ। তিনি ছিলেন স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতীক। তার পিতা শহীদ নজরুল ইসলাম জাতির জনকের অনুপস্থিতিতে তারই নির্দেশে ও পরিকল্পনা অনুসারে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। ঠিক একইভাবে ১/১১-এর সময় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্ত করাসহ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি ফিরিয়ে দিতে সেনাসমর্থিত সরকারকে বাধ্য করেন। তিনি আরও বলেন, সৈয়দ আশরাফের মতো নেতা এখন খুবই প্রয়োজন। জাতীয় নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জননেতা সৎ, নিষ্ঠাবান, সাহসী পরীক্ষিত নেতা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সৈয়দ আশরাফ স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে কে এম খালিদ এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর টাউন হল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই সভা হয়।
২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৬৮ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ।
