চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন খুন

২০ বছর পর আত্মসমর্পণ কাশেম চেয়ারম্যানের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৪৬ এএম

বিশ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে কারাগারে যেতে হলো চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন অপহরণ-হত্যা মামলার আসামি ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে। সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফেরার পর গতকাল মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান তিনি। কিন্তু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই অপহরণ করা হয় ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনকে। পরে অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর দুই বছর পর্যন্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ২০০৫ সালের আগস্টে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কালা মাহবুব নামের এক আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানান, জামাল উদ্দিনকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার দইজ্জ্যাখালী পাহাড় থেকে মাটি খুঁড়ে জামাল উদ্দিনের কঙ্কাল উদ্ধার করে র‌্যাব। এরপর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সেটি জামাল উদ্দিনের কঙ্কাল বলে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার সময় ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন কাশেম।

জামাল উদ্দিন অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার ছেলে চৌধুরী ফরমান রেজা লিটন মামলা করেন। এ মামলা তদন্ত শেষে ১৬ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু করেন। পরে মামলাটি জজ আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নারগিস আক্তারের আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনকে অপহরণের পর তার নির্দেশেই হত্যা করা হয় বলে মামলার একাধিক সাক্ষী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রিদুয়ানুল বারী জানান, ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন অপহরণ ও হত্যা মামলায় মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নারগিস আক্তারের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান কাশেম চেয়ারম্যান। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা যায়, উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন কাশেম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত