চিনির আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৫০ এএম

আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই ভোজ্য তেলের শুল্ক সুবিধা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার রমজানে যাতে চিনির দাম আর না বাড়ে, সে জন্য আমদানি শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। একই সঙ্গে রমজানের আগে ভোজ্য তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সচিবালয়ে গতকাল বুধবার দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের পঞ্চম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় টিপু মুনশি বলেন, ‘চিনির দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় একটু বেশি। আলোচনা হয়েছে, চিন্তা করছি আমরা একটা চিঠি পাঠাব, যাতে করে যে শুল্ক  আছে, রমজান মাস সামনে রেখে সেটা যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়।’

‘সার্বিক পরিস্থিতিতে পেঁয়াজ, ছোলার দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। দামও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়েনি। ভোজ্য তেল সয়াবিন, পামের আন্তর্জাতিক বাজারে যে দাম বেড়েছে, তেমনটা নয়। ভালো অবস্থায় আছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দাম ভবিষ্যতে বাড়বে না।’

অবশ্য এ ক্ষেত্রে ডলারের বিপরীতে টাকার দর স্থির থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি বিনিময়ের হার ভালোর দিকেই আছে।’

বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের এলসি খুলতে সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলব। এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে।’

বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি। এ সমস্যাগুলো আছে বলেই সেটা নিয়েই প্রথম পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা। দ্বিতীয় হচ্ছে, সেই দামটা বাজারে অ্যাভেইলেবল কি না, তৃতীয় হলো, কেউ উচ্চ লাভের আশায় মজুদদারি করেছে কি না। এসবই আমরা মনিটরিং করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যখন একটু ক্রাইসিস হয় অনেক সময় বড় করে দেখে একটা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, যথেষ্ট পরিমাণ রয়েছে। সামনের দিকে এলসি ওপেনের যথেষ্ট চেষ্টা চলছে। রমজান মাসে সমস্যা হবে না বলেই আমরা মনে করছি।’

দাম নিয়ন্ত্রণে আসন্ন রমজানে একসঙ্গে পুরো মাসের পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সাত দিন ক্রেতারা যে উপচে পড়ে, সেটা একটু কাইন্ডলি আপনারা (সাংবাদিক) বলুন, দরকার নেই। কারণ আপনার দোকানে আছে ১০০ কেজি মাল। এখন ১০ জনে গিয়ে প্রত্যেকে ১০০ কেজি করে কিনতে চায়। তখন মনে হবে যে আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম)।’

তিনি বলেন, ‘এক মাসেরটা রেগুলার কিনলে পরে এই চাপটা হয় না। এটা কিন্তু একটা বড় ধরনের ঝামেলা। আমরা সব সময় লক্ষ করছি, রমজানের প্রথম সাত দিনেই বেশি ক্রাইসিস। কারণ রমজানের আগে থেকে সাত দিনের পণ্য কিনে নিলে তারপর সাত-আট দিন চলে যায়। তখন দেখা যায় স্বাভাবিক হয়ে আসছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত