রেলের জমি চায় পুলিশ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০১ এএম

পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন। যদিও তাদের কথা বলার কথা ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেওয়ায় তারা দাবিগুলো তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে আছে রেলের খালি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া, জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না কমানো।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্তঅন্তত ১২ কর্মকর্তা কথা বলেছেন। পুলিশের দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নিয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি দেশ রূপান্তরকে জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠকটি শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর দেড়টার দিকে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান, এসবির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি এসএম রুহুল আমিন, হাইওয়ের প্রধান মল্লিক ফকরুল ইসলাম, র‌্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রধান মাহাবুবুর রহমান, সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হাবিবুর রহমানসহ সব অতিরিক্ত আইজিপি, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান, রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন ডিআইজি ও কয়েকজন পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুলিশ নিয়ে বেশ আন্তরিক। তিনি পুলিশের উন্নয়নের জন্য সবকিছু করছেন। পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের দিনও তিনি আন্তরিক ছিলেন। রাজারবাগে তার সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দরবারে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেননি। বৈশি^ক পরিস্থিতি সামনে রেখে কোনো দাবি করা হয়নি।

তারা জানান, আজকের (গতকাল) বৈঠকে শুধু প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব ও আইজিপি কথা বলবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার সময় বলেন, আমি তো প্রথম দিন কথা বলেছি। পুলিশ কর্মকর্তারা কিছু বলবে না? তাদের কথা আমার শোনা উচিত। পরে অনুমতি দিলে পুলিশ কর্মকর্তারা কথা বলেন। এই সময় বক্তব্য রাখেন র‌্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান (চলতি দায়িত্ব) শাহ আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি শামসুন নাহার, যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় জোয়ার্দার, গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকাসহ অন্তত ১২ জন কর্মকর্তা।

 ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান বৈঠকে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করেন, মন্ত্রণালয় জ¦ালানি তেল ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। এতে কিছুটা হলেও পুলিশের সমস্যা হচ্ছে। কারণ যানবাহন নিয়ে অভিযান থেকে শুরু করে নিয়মিত টহল দিতে হচ্ছে। এতে তেল খরচ হচ্ছে বেশি। আবার সরকারের নির্দেশও মানতে হচ্ছে পুলিশকে। পুলিশের জন্য তেল বরাদ্দ না কমানোর অনুরোধ করেন তিনি। হাবিবুর রহমান কনস্টেবলসহ অন্য সদস্যদের জন্য ভাতা বাড়ানোরও অনুরোধ করেন।

রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি শাহ আলম প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে বলেন, রেল পুলিশের নিজস্ব ভবন নেই। এতে আমাদের বেশ সমস্যা হচ্ছে। কাজের সুবিধার্থে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই জন্য রেলের অনেক খালি জায়গা আছে। এসব স্থান থেকে রেল পুলিশের জন্য জায়গা বরাদ্দের অনুরোধ জানান তিনি।

কর্মকর্তারা জানান, দাবি-দাওয়া শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সরকারের তরফ থেকে যা যা করা দরকার তাই করবেন বলে আশ^াস দিয়েছেন। অতীতেও করেছেন। সামনেও আরও করা হবে। অনেক কিছুই পুলিশকে দাবি করতে হয়নি। তিনি নিজে খোঁজ নিয়ে জেনে সে সব সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যে করে দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত