যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বোস্টন ও কেমব্রিজের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কেমব্রিজ নগর ভবনের সামনে প্রবাসীরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী সাইদ ফয়সাল ওরফে আরিফকে গুলি করে হত্যাকারী পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সাথে তারা অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট নগর কর্র্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেসের প্রতিবেদন মতে, গত বুধবার দুপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাইদ ফয়সাল ওরফে আরিফ। পুলিশ দাবি করছে, সাইদ ফয়সালের হাতে একটা লম্বা ছুরি দেখতে পেয়ে তাকে সেটা নিচে নামাতে বলে। কিন্তু তিনি সোজা পুলিশের দিকে ধেয়ে আসছিলেন। ফলে পুলিশ তাকে গুলি করে।
ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে বোস্টনসহ পার্শ্ববর্তী একালায় প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। সাইদ ফয়সাল হত্যায় জড়িত দোষী পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগর ভবনের সামনে শত শত প্রবাসী জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাইদ ফয়সাল ওরফে আরিফকে হত্যার ঘটনা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। বাবা-মার একমাত্র ছেলে ফয়সালের করুণ মৃত্যুতে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা তাদের জানা নেই। তাই দোষী পুলিশদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
কেমব্রিজ সিটি মেয়র সুম্বুল সিদ্দিকি ও কাউন্সিলম্যান বুরহান আজিম বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি আমেরিকান ফাউন্ডেশন (নিবাফ)-এর কর্মকর্তারা। কেমব্রিজ সিটি মেয়র ও কাউন্সিলম্যানের উদ্যোগে খুব শিগগির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন বলে উল্লেখ করে নিবাফ।
নিহত সাইদ ফয়সাল ওরফে আরিফের দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বলে জানা গেছে। ইউনিভার্সিটি অব বোস্টনে (ইউম্যাস) পড়াশোনা করতেন। তার পরিবারের প্রায় সবাই বোস্টনে বসবাস করেছেন।
