বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আদালতের দেওয়া বাজেয়াপ্তের নির্দেশের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, মামলা দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন দমানো এই সরকারের পুরনো কৌশল। এসব করে চলমান আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে বিএনপি-সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবং সামনের দিনগুলোতে ১০ দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সরকার আদালতকে ব্যবহার করে তারেক-জোবাইদার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল : তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশের বিরুদ্ধে গতকাল বাদ জুমা রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান বলেন, ‘মামলা দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন দমানো এ অবৈধ সরকারের পুরনো কৌশল। কিন্তু এবার বিএনপির নেতাকর্মীরা জেগে উঠেছেন। মামলা দিয়ে, হামলা করে, জেলে ভরে কোনো লাভ হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিয়া পরিবারকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সরকার, তাতেও কোনো লাভ হবে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জিয়া পরিবার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। আর খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। তিনি স্বৈরাচারীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আজ সেই গণতন্ত্র ফ্যাসিবাদের কবলে। এবার গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করছেন তারেক রহমান। আর এতেই এ অবৈধ সরকার ভীত হয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে কোনো লাভ হবে না। জনতা এবার রাজপথে নেমেছে।’
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারসহ আরও অনেকে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল : গতকাল সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কাকরাইল নাইটিংগেল মোড় ঘুরে কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় তারা তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশসহ সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদেরও মুক্তির দাবি জানান তারা।
মিছিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ, দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, সাধারণ সম্পাদক সাদ মোরশেদ পাপ্পা শিকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, সর্দার মো. নুরুজ্জামান, মোর্শেদ আলম প্রমুখ।
তারেক-জোবাইদার সম্পদ ক্রোকের আদেশ সরকারের ইঙ্গিতেইইউট্যাব : তারেক-জোবাইদার সম্পদ ক্রোকের আদেশ সরকারের ইঙ্গিতে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি-সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সরকারের ইঙ্গিতে আদালত তারেক ও জোবাইদা রহমানের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যে মামলাটি করা হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ তথাকথিত জরুরি সরকার ছিল বর্তমান আওয়ামী সরকারেরই আন্দোলনের ফসল। দীর্ঘদিন পর ওই মামলায় আদালত তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের সম্পত্তি ক্রোকের যে আদেশ দিয়েছে, তা সরকারের ইঙ্গিতেই।’
তারা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থ পাচার করে কানাডায় বেগমপল্লী তৈরি হলেও এসব দুর্নীতি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কারণ সরকারপন্থিরা এসব লুণ্ঠনে জড়িত। অন্যদিকে তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে থাকা মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা ও আদেশ দেওয়ার মানে জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করা। মূলত সরকার আদালতকে ব্যবহার করে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এ মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রেখেছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।’
