বিচারকের সঙ্গে অসদাচরণের বিচার কোর্টে : আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:১৮ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজ আদালতের বিচারকের সঙ্গে অশালীন আচরণের যে অভিযোগ উঠেছে তার বিচার আদালত করবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিচারককে গালিগালাজ, হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিন আইনজীবীকে হাইকোর্ট তলব করেছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা জজ ও অন্য বিচারকরা প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ করেছেন এবং একটি ভিডিও পাঠিয়েছেন। সেটা আমি শুনেছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি কনটেম্পট রুল ইস্যু করেছে। এখন এটা বিচারিক ব্যাপার। আদালত বিচার করবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের জামিন বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘সরকার আদালতের কোনো মামলা চলাকালে বা মামলা হওয়ার ক্ষেত্রে আদালতে কখনো কোনো মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ করে না। মামলা আদালতে চলছে, আদালত স্বাধীনভাবে তাদের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে শুনেছি, হাইকোর্টে যে জামিন দেওয়া হয়েছিল সেখানে আইনের কিছু ব্যত্যয় ঘটেছিল, সে জন্য তিনি আপিল বিভাগে গিয়েছেন।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল প্রমুখ।

এর আগে তিনি ঢাকা থেকে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সকাল সাড়ে ১০টায় আখাউড়া আসেন। পরে তিনি কসবা প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণের জন্য নয়, সাইবার অপরাধকে আইনের আওতায় আনার জন্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সংবিধানে বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা কখনো চাই না বাংলাদেশের সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব হোক।’

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী যে সময় উল্লেখ আছে সেই সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সংবিধানে যা উল্লেখ নেই তা হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান নেই, তা অবৈধ। সবাই নির্বাচনে আসেন। জনগণ যাকে চায় তাকে ভোট দেবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলেছিল ১০ তারিখ খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবে। তার ভাই বলেছেন, আমার বোনকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ১০ তারিখ খালেদা জিয়া বক্তব্য দেননি।’

কসবা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়া, কসবা পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম হাক্কানী প্রমুখ।

কসবা প্রেস ক্লাবে সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. সোলেমান খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেপাল চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত