রাবি ছাত্র অপহরণের অভিযোগে ৫ যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫৬ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক ছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে অপহৃত ওই বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম কোর্ট স্টেশন মোড়ের জামিল চত্বর এলাকা হতে কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

অপহরণকারীরা বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহৃতের মায়ের কাছে ফোন করেন।

উদ্ধার হওয়া রাতুল কুমার বর্মণ রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার চান্দলাই গ্রামের মৃত অসীম কুমার বর্মণের ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার রানীনগর হিন্দুপাড়ার ইন্দ্রজিৎ সরকারের ছেলে পবন সরকার উদয় (১৯), রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম বাজার এলাকার মৃত সাইদুল ইসলামের ছেলে দাউদ ইব্রাহিম সাফি (২২), একই এলাকার মৃত সুরে জামাল শেখের ছেলে পলাশ কবির (২৬), কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পালপাড়ার হরেন্দ্রনাথ পালের ছেলে প্রবীণ পাল রুদ্র (২০) ও একই এলাকার শামসুর রহমান বাদলের ছেলে ওয়াহিদুর রহমান নুর (২০)।

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম কোর্ট স্টেশন মোড়ের জামিল চত্বর এলাকা হতে আরএমপির কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গোদাগাড়ী থানার চান্দলাই গ্রামের মৃত অসীম কুমার বর্মণের ছেলে রাতুল কুমার বর্মণের সঙ্গে আসামি পবন সরকারের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পবন সরকার মোবাইল ফোনে রাতুলকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম কোর্ট স্টেশন মোড়ের জামিল চত্ত্বরে আসতে বলেন।

রাতুল সেখানে গিয়ে তার ছোট ভাই দিবাকর বর্মণের মেসে থাকা নিয়ে পবনের সঙ্গে কথা বলে। কথা শেষ করে রাতুল সেখান থেকে যেতে চাইলে পবনের অপর সহযোগী দাউদ ইব্রাহিম ও পলাশ তাকে অপহরণ করে হড়গ্রাম বাজারে দাউদ ইব্রাহিমের একতলা বিল্ডিংয়ের নিচতলায় একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে এবং মারধর করেন।

রাত ৯টার দিকে আসামিরা রাতুলের মোবাইল ফোন হতে তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। রাতুলের মা বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

আসামিরা অবশিষ্ট টাকার জন্য রাতুলকে মেরে জখম করেন। রাতুল আসামিদের সাথে ধস্তাধস্তি করে একপর্যায়ে ঘরের বাইরে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন। আসামিরা বাইরে রাতুলকে আবার ধরে ঘরে নিয়ে আটক রেখে মারধর করতে থাকে।

তাদের এই ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে স্থানীয় এক বাসিন্দা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। এরই সূত্র ধরে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই বাড়ি থেকে ৫ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেন এবং রাতুলকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় রাতুল ৫ জনের নামে অপহরণ, মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় ৫ জনই জড়িত ছিল এবং সবাই ধরা পড়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার দুপুরে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত