নামি ক্রিকেটার টানা এখন বিপিএলের চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৭ এএম

বিপিএলের এই আসরে সময়ের নামি ক্রিকেটার উপস্থিতির তালিকা করলে এক নম্বরেই থাকবেন ডাভিড মালান। নাম লেখানো অপর নামি ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান এখনো আসেননি। এছাড়া আফগানিস্তানের সেরা একাদশের ক্রিকেটাররাও আছেন। তবে টি-টোয়েন্টির বর্তমান সেরা বলতে যাদের বোঝানো হয় সেই তারকারা এবার বিপিএলে নেই। ইংল্যান্ডের ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী মালান এই দিকটিতে বাংলাদেশের এই টুর্নামেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন। বিপিএলের প্রতি ভালোবাসার কারণে নিজে এলেও বড় তারকাদের এই টুর্নামেন্টে টানা কঠিন হবে বলে তার মত। আজ সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই ব্যাটার বিপিএলকে আরও উন্নত করার পরামর্শ দিলেন।

বাংলাদেশে মালান খুব পরিচিত নাম। তার ক্যারিয়ারটাই উঠেছে বাংলাদেশে খেলে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ঢাকা লিগে খেলেন। এরপর বিপিএলে বরিশাল বুলস, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ও খুলনা টাইগার্সে খেলেছেন। বিপিএলে ভালো করেই স্পিনের বিপক্ষে ভালো খেলার সুনাম পান এবং জাতীয় দলেও ডাক পান ২০১৭ সালে। পারফরম্যান্স দিয়ে ২০২০ সালে ৯১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে হয়েছেন টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটার। এবার বিপিএল আলো করে থাকলেও মালানের আশঙ্কা এই টুর্নামেন্টে সেরা ক্রিকেটারদের পাওয়া ভবিষ্যতে কঠিন হবে, ‘আমার মনে হয় ভালো সময়ে এই টুর্নামেন্টটা হয়। এই টুর্নামেন্টটা সবসময়ই তরুণ ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য উঠে দাঁড়ানোর আসর হতে পারে। আমার মনে আছে আমি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আন্দ্রে রাসেল, শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারাইন, কায়রন পোলার্ডদের বিপক্ষে বা একই দলে খেলেছি, যা অসাধারণ ঠিক যেমন আইপিএল দল। আসলে ক্রিকেটারের দিক থেকে বিপিএলের মান সবসময়ই ছিল কিন্তু এখন অন্য লিগ হয়ে যাওয়ায় সেরা ক্রিকেটারদের পাওয়া এখন একটু চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।’

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার জন্যও আসরটি চ্যালেঞ্জিং হয়েছে শুরুতেই। রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরে শুরু করে তারা। তবে মালানের বিশ্বাস ১-২ ম্যাচের হার চিন্তার বিষয় নয়। দলের ম্যাচ উইনাররা সিলেটের বিপক্ষেই কুমিল্লাকে জেতাবেন, ‘আমরা একটা ম্যাচ খেলেছি এবং তাতে জিততে পারিনি। যে কোনো টুর্নামেন্ট সব দল শিরোপা জিততে চায়। প্রথমে নকআউটের জন্য চিন্তা করে। এক দল ১২ ম্যাচ খেললে ৪-৫টা হারলেও কোয়ালিফাই করতে পারে। সেখানে ১-২টা ম্যাচ হারা চিন্তার বিষয় না, এটা স্বাভাবিক। আমাদের দলে বেশ ভালো মানের ক্রিকেটার আছে, ম্যাচ উইনার আছে। অবশ্যই আমরা ওদের পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টে ফিরব।’

তবে ম্যাচ উইনিং পারফরমারে ভর্তি সিলেট স্ট্রাইকার্স। নতুন দলটি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে দারুণ উজ্জীবিত। তরুণ ক্রিকেটারই দলের ম্যাচ উইনার হয়ে উঠেছেন। প্রথম ম্যাচে পেসার রেজাউর রহমান রাজা ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতান। বরিশালের বিপক্ষে আরও একবার তরুণরা জ্বলে উঠলেন। তৌহিদ হৃদয় ৩৪ বলে ৫৫ করে হয়েছেন ম্যাচসেরা। তবে ইমপ্যাক্টের দিক থেকে মাত্র ১৮ বলে ৪৩ রান করা জাকির হয়েছেন সেরা। সিলেটের কোচ নাজমুল হাসান জানালেন ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়া জাকিরের মধ্যে টি-টোয়েন্টির ভবিষ্যৎ তারকা হওয়ারও রসদ আছে, ‘আমার খেলোয়াড়ি জীবনে অনেকদিন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি, রান তাড়ার ম্যাচে জাকিরের মতো এমন ইনিংস খুবই কম দেখেছি। ওর ইনিংসটাই আমাদের খেলার মোমেন্টাম এনে দিয়েছে। এটি ধরে রাখতে পারলে টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে জাকির।’

নাজমুল জানেন প্রথম ম্যাচে হারা কুমিল্লা শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। ওদিকে সিলেট দাঁড়িয়ে টানা তিন জয়ের কাছে। কুমিল্লার ফিরে আসার লড়াই আটকে নিজেরা ধারাবাহিক থাকতে চায় সিলেট। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত