পুলিশের মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল রেখেছে সর্বোচ্চ আদালত। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদেশে গত ৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত ফখরুল ও আব্বাসের জামিননামা (বেইল বন্ড) না দিতে তাদের আইনজীবীদের যে আদেশ দিয়েছিল সেটি প্রত্যাহার (রিকল) করেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে দুজনের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের দেওয়া রুল সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে আদেশপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে আদালত।
আদেশের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, নতুন কোনো মামলা না থাকলে ফখরুল-আব্বাসের কারামুক্তিতে বাধা নেই। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত যে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ করতে পারছে দুজনের জামিন বহালে তা প্রমাণ হলো।
অধস্তন আদালতে চারবার জামিনের আবেদন না-মঞ্জুরের পর গত ২ জানুয়ারি দুজনের পক্ষে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবীরা। গত ৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট ফখরুল-আব্বাসকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে কেন তাদের জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেয় আদালত। পরদিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ৪ জানুয়ারি আদেশে এ বিষয়ে রবিবার (গতকাল) শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায় চেম্বার আদালত। তবে এই সময়ের দুজনের আইনজীবী কোনো জামিননামা দিতে পারবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল শুনানিতে ওঠে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি। ফখরুল-আব্বাসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আদেশের পর অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগ জামিনের যে আদেশটি দিয়েছে সেটি বহাল রয়েছে। লিখিত আদেশটি পেলে আমরা জামিননামা দাখিল করব। দুজনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মামলা নেই। কাজেই আমরা মনে করি জামিননামা দাখিলের পর তারা কারামুক্তি পাবেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তারা (বিএনপি ও দলটির আইনজীবীরা) সবার বিরুদ্ধে বদনাম দেওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের বিরুদ্ধে তারা যে এই ধরনের কথা বলেন, আজকে কী প্রমাণ হলো? আজকে তো আপিল বিভাগ সাবমিশন গ্রহণ করে জামিন দিলেন।’
গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে মকবুল নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ফখরুল ও আব্বাসের বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাধানো ও পুলিশের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া ও ককটেল উদ্ধারের অভিযোগ করে পল্টন থানায় মামলা করে পুলিশ। এতে এ দুই শীর্ষ নেতাসহ দলটির ৪০০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। ৮ ডিসেম্বর রাতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে নয়াপল্টনের সংঘর্ষের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন ৯ ডিসেম্বর আদালত তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর আরও তিনবার অধস্তন আদালতে দুজনের জামিন না-মঞ্জুর হয়। গত ২১ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চাইলে তা না-মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত।
