যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি হত্যা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন সমর্থন নেই ঢাকার

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৫৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজে’র ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের সামনে করা ওই মানববন্ধনে ঢাকার সমর্থন নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। একই সঙ্গে এ আয়োজন সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না বলে জানান তিনি। মানববন্ধনে সাংবাদিক ও কলামিস্ট অজয় দাসগুপ্ত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জাতিগত সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও তারা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশকে মানবাধিকার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। আমরা চাই না আমাদের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক। তবে যদি হয়ে থাকে, তাহলে আমরাই ব্যবস্থা নেব, অন্যের পরামর্শে নয়। মার্কিন পুলিশ এমন একজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে, যিনি কোনো অপরাধে দোষীসাব্যস্ত হননি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘আমরা সাঈদ ফয়সাল হত্যার বিচার চাই এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এদিকে মানববন্ধনের বিষয়টি নজরে আনলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তো জানি না। এ ধরনের মানববন্ধনকে আমরা উৎসাহ বা সমর্থন করি না। আমেরিকায় বিচারব্যবস্থা ভালো। বাংলাদেশি মৃত্যুর বিষয়ে তারা তদন্ত করবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘মানববন্ধন কারা করেছেন পুরো বিষয়টা আমি জানি না। যারা করেছেন তারা এটা আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতে পারতেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে আমাদের দূত এরই মধ্যে সে দেশে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, এ ঘটনায় ন্যায়বিচার হবে। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।’

স্বচ্ছ তদন্তের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের : সাঈদ ফয়সাল নিহতের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস। একই সঙ্গে ফয়সালের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তারা। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র জেফ রাইডেনো।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাঈদ ফয়সালের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের আহ্বানকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা অ্যাটর্নি অফিসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হবে।

গত ৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাঈদ ফয়সাল। এ ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে মানববন্ধন হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত