বিএনপি গণঅবস্থানের নামে কোনো জনদুর্ভোগ তৈরি করলে, তা সহ্য করা হবে না। তবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির আয়োজন করলে তাতে বাধা দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কর্মসূচিতে সরকার কখনো বাধা দেয়নি। কিন্তু গত সব কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গণঅবস্থানের নামে রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর বা ধ্বংসাত্মক কাজ করলে নিরাপত্তা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টারে মুজিব কর্নারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলাম, মনে পড়ে সেই ৭ মার্চের ভাষণ। মার্চের প্রত্যেকটা দিনের কথা আমার মনে পড়ে। বঙ্গবন্ধু তার সারা জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন, যখন ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তাঘাটগুলো মেরামত হলো। একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার যখন বাংলাদেশে প্রাণের সঞ্চার হলো, তখন তাকে প্রাণ হারাতে হলো। স্বাধীনতাবিরোধীদের পরামর্শে কিছু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য এ ঘটনা ঘটিয়েছিল। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার দেখার প্রতীক্ষায় ছিলাম। সে বিচার করে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কালিমামুক্ত করেছেন। হৃদয়ে ক্ষত ছিল তার কিছুটা তিনি উপশম করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আপনারা এখানে মুজিব কর্নার স্থাপনের আয়োজন করেছেন, সে জন্য আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটা দেখবে, এরা জানবে।’
জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ডিএমপিতে সুন্দর এক কর্নার করা হয়েছে আজ, এটি খুবই সুচিন্তিত পরিকল্পনা।’
আইজিপি বলেন, ‘১০ জানুয়ারি যেদিন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন। তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে রেসকোর্স ময়দানে আসা যেত। কিন্তু তার আসতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। আমরা সে সময় বাংলাদেশ বেতার থেকে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য শুনব বলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকে বীর পুলিশ সদস্যরা প্রথম বুলেট নিক্ষেপ করেন। ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ বাংলাদেশ পুলিশ করেছিল, এটা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।’
