মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি রোগে ফিজিওথেরাপি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০৭ এএম

ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছেন, সেসব ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীর হাত ও পায়ের শেষভাগের স্নায়ুগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলে।

কাদের ঝুঁকি

যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না। যাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে নেই। যারা ধূমপায়ী। যাদের বয়স বেশি। যাদের ওজন বেশি। যারা অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন। ভিটামিন-বি-এর অভাবজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন কেউ।

লক্ষণ

হাত ও পায়ের অনুভূতি কমতে থাকে। হাত-পা কেটে রক্ত বের হলেও টের না পাওয়া। হাত ও পা ঝিন ঝিন লাগতে থাকা। হাত ও পায়ের শক্তি কমা ও অবশ অনুভূতি হওয়া। হাত ও পায়ের মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া। হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া অনুভূতি হওয়া।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথিতে রোগীদের মাংসপেশির ক্ষমতা ধীরে ধীরে উন্নত করা সম্ভব। রুটিনমাফিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির ব্যথা দূর ও রক্তের শর্করার মাত্রা কন্ট্রোলে আনতে সহায়তা করে।

স্ট্রেচিং মেথডের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির শক্ত ও শর্টেন মাসলগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। আইসোমেট্রিক মেথড, হোল্ড রিলাক্স মেথড, ওপেন অ্যান্ড ক্লোজ চেইন মেথড, গ্রেডেড ওয়েট প্রোগ্রেশন, প্রগ্রেসিভ স্ট্রেন্থদেনিং মেথডের মাধ্যমে মাংসপেশির দুর্বলতা কমিয়ে আনা এবং ধাপে ধাপে মাংসপেশিগুলোকে সবল করা।

    ফ্লেক্সিবিলিটি মেথডের মাধ্যমে জয়েন্টগুলোকে নমনীয় করে তোলা।

     এনডিউরেন্স মেথডের মাধ্যমে কাজের সক্ষমতা বাড়ানো।

      ১৫-২০ মিনিট করে দিনে দুবার এক দিন অন্তর অন্তর হাঁটা।

    ব্যালেন্স মেথডের মাধ্যমে শারীরিক ভারসাম্যতা ঠিক করা।

     কো-অর্ডিনেশন মেথডের মাধ্যমে হাত ও পায়ের সমন্বয়তা ঠিক করে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা।

    গেট রি-এডুকেশন অ্যান্ড কারেকশন অব গেট ফেজের মাধ্যমে রোগীর হাঁটার ভঙ্গি ঠিক করে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা।

     ফ্রি হ্যান্ড মেথডের মাধ্যমে জয়েন্টসমূহের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করা।

     পেইন ফ্রি মেথডের মাধ্যমে জয়েন্টগুলোর ব্যথা কমিয়ে আনা।

চিকিৎসা

কাউন্সিলিং এবং অ্যাউয়ারনেসের মাধ্যমে রোগীর ভীতি কমিয়ে, মানসিক সাহস বাড়াতে হবে। তারপর রোগীর ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করার পাশাপাশি রোগীর শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে রোগীকে স্ট্যাটিক সাইক্লিং, ট্রেডমিল প্র্যাকটিস, ওয়ার্কিং অ্যান্ড রানিং প্র্যাকটিস, স্টেপিং প্র্যাকটিস করানোর মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত