টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:১২ এএম

টানা চার দিন ধরে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্র।

এর ফলে কনকনে ঠান্ডায় খেটে খাওয়া মানুষজন পড়ছে বিপাকে। সড়কপথে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহনগুলো। এদিকে নৌপথে যাত্রীসহ মাঝিরাও পড়েছেন বিপাকে। ঘন কুয়াশায় দিক ভুলে নৌকা অন্যপথে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের মিলপাড়া এলাকার হারুন নামের এক শ্রমিক বলেন, প্রতিদিন সাইকেলে করে কাজে যেতে হয়। যে কনকনে ঠান্ডা পড়েছে, সাইকেল চালিয়ে শহর যেতে খুব কষ্ট হয়। হাত-পা শীতে বরফ হয়ে যাচ্ছে। তারপরও যেতে হয়, না গেলে তো সংসার চলবে না। ওই এলাকার এনামুল নামে আরও একজন বলেন, বোরো ধানের বীজতলা করেছি। এ ঠান্ডা ও শীতে বীজতলার অবস্থা খারাপ। গত দুদিন রোদ ওঠা দেখে একটু ভালো লাগল। আবার আজ (গতকাল) শীত পড়ছে, রাস্তা দেখা যায় না। বীজতলার কী হবে বলা যাচ্ছে না।

সদরের মোগলবাসা ঘাটের মাঝি আবদুল জলিল বলেন, একে তো কনকনে ঠান্ডা, তার ওপর ঘনকুয়াশা। এ সময় নদীতে পানি কম থাকে ফলে নৌকা নিয়ে চলতে খুব সমস্যা। অনেক সময় দিক ভুলে অন্য চরে ঢুকে যাই। যাত্রীদের সঠিক সময়ে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাঈদুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে কম করে হলেও তিন-চার হাজার কম্বলের প্রয়োজন। সরকারিভাবে কম্বল পেয়েছি মাত্র ৫০০।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তুহিন মিয়া জানান, জেলায় সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা চার দিন ধরে কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঘনকুয়াশার মাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও ঘনীভূত হয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত