বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর গণ-অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা দেয়। একই সময় প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগও। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে যায়। ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন। বেশি সমস্যায় পড়েন অফিসগামী মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও রোগীরা। তবে রাতে তা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত করাসহ ১০ দফা দাবিতে এ গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় দলগুলো। একই সময় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এ যানজট তীব্র রূপ নেয়।
সকালের দিকে পল্টন এলাকা বিএনপির গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন। ফলে সড়কে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব বাড়তে থাকে। পথচারী ও গাড়িচালকরা জানিয়েছেন, যানজটের কারণে ১০ মিনিটের রাস্তা এক ঘণ্টাতেও পার হওয়া যায়নি। বিশেষ করে প্রেস ক্লাব, ফার্মগেট, মৌচাক ও শাহবাগ এলাকায় দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাস্তার এক পাশের গাড়ি চলাচল একেবারেই বন্ধ ছিল। বাধ্য হয়েই অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছেন। তবে বিকেলের দিকে রাজধানী জুড়ে গাড়ি চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ফার্মগেট এলাকায় বুলবুল নামে এক চাকরিজীবী জানান, তিনি সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হন। খামারবাড়ি থেকে গাড়িতে উঠে ফার্মগেট সিগন্যালে আসতে তার সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। পুরো রাস্তায় জ্যাম। ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছানো নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রমনা ট্রাফিক জোনের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘বেলা ১১টার পর থেকে কিছু পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে সেটি তেমন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।’
