দেশের রপ্তানি আয়ের বেশিরভাগই আসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার বাজার থেকে। বিশেষ করে এসব অঞ্চলে পোশাকের রপ্তানিই সবচেয়ে বেশি। ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি প্রতি মাসেই বাড়ছে। কিন্তু বিপরীতে রাশিয়া ও চীনের বাজারের রপ্তানি আয়ে প্রতি মাসেই পিছু হটছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে রপ্তানি পণ্যের প্রধান প্রধান বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মাত্র চারটি বাজারে মোট রপ্তানি আয়ের ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি, ৪৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ বাজার থেকেই আয় হয় ১২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপরের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের, এ বাজার থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আসে মোট রপ্তানি আয়ের ১৮ শতাংশ। এ দুই অঞ্চলের পরই রপ্তানি সবচেয়ে বেশি আসে জাপান ও কানাডা থেকে। জাপান থেকে আসে ৯১ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। কানাডা থেকে ৮৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার রপ্তানি আয় এসেছে। সব মিলিয়ে এসব বাজার থেকে মোট ১৯ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।
তবে এক সময় রপ্তানি আশা জাগিয়েও পিছুটান দিয়েছে চীন ও রাশিয়ার বাজারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়াতে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে রপ্তানি আয় ছিল ৩৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ দেশটিতে গত বছরের তুলনায় ৪৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম হয়েছে। এ সময়ে রাশিয়াতে রপ্তানিকৃত প্রধান প্রধান পণ্য হলো নিটওয়্যার থেকে এসেছে ১১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, ওভেন গার্মেন্টস ৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এবং হোম টেক্সটাইল শূন্য দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার, ক্রাস্টেসিয়ানস ৩৩ লাখ ডলার, পাট ও পাটজাত পণ্য ৬৯ লাখ ডলার।
রাশিয়ার মতো একই পথে চীনের বাজারও। এ সময়ে চীনে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে রপ্তানি আয় ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ কম।
২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপ-আমেরিকার প্রধান বাজারগুলো ছাড়াও অপ্রচলিত কিছু বাজারে জায়গা করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। অপ্রচলিত বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ৩২ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াতে ৩১ কোটি ডলার, হংকংয়ে ৭ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, ইউএইতে ৩৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, ব্রাজিলে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, সৌদি আরবে ১৬ কোটি ২৯ লাখ, মেক্সিকোতে ২০ কোটি, মালয়েশিয়ায় ১৯ কোটি ৮৯ লাখ, সিঙ্গাপুরে ৯ কোটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬ কোটি ৯২ ডলারের পণ্য সামগ্রী রপ্তানি হয়েছে।
এ ছাড়াও নরওয়ে, চিলি, সুইজারল্যান্ড, ইরান, পাকিস্তান, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি দেশে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী রপ্তানি হচ্ছে। এসব দেশে রপ্তানিকৃত প্রধান প্রধান পণ্যসমূহ হলোÑ তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, টেরিটাওয়েল, কটন ও কটন পণ্য, ম্যানমেড ফিলামেন্টস ও স্টেপল ফাইবার, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য, কার্পেট, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, ক্রাস্টেসিয়ানস, শাকসবজি ও আলু, ফলমূল, শুকনা খাবার, গুঁড়ো মসলা, রাবার, তামাক, প্লাস্টিক-মেলামাইন দ্রব্যাদি, হ্যান্ডিক্রাফট, সিরামিক টেবিলওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস, বাইসাইকেল, জাহাজ, কপারওয়্যার, লোহার পাত, ফার্নিচার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ও গলফ শ্যাফট।
