বড় রানের লড়াইয়ে বরিশালের জয়

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩০ পিএম

দুদলের রানের ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে ব্যবধান দেখে বোঝার উপায় নেই ম্যাচে দুদলের লড়াইয়ের পার্থক্য কতটুকু ছিল। শেষ তিন ওভারের দুটিতে চট্টগ্রামের জিয়াউর রহমান দুটি বড় ওভার উপহার না দিলে চট্টগ্রামের হারের ব্যবধান ২৬ রান না হয়ে আরও বেশি হতো। কারণ রানের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ফরচুন বরিশালের কাছে স্পষ্ট ব্যবধানেই হেরেছে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আগে ব্যাট করে বরিশাল করে ২০২/৭। জবাবে ১৭ ওভারে ৩ উইকেট ১৩০ রান তোলা চ্যালেঞ্জার্সরা শেষ ৩ ওভারে তুলেছে ৪৬ রান।

শিরোপা জয়ের প্রশ্নে দলগুলোর প্রথম লক্ষ্য প্লে অফ। সেই পথে সবচেয়ে এগিয়ে সিলেট স্ট্রাইকার্স। বড় দল বরিশাল তাদের পিছু এক ধাপ এগিয়েছে। চট্টগ্রাম পর্বে তারা আরও তিন ম্যাচ খেলবে। সবকটিতে জিতলে সিলেটের সঙ্গে ‘টেবল টপার’-এর দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে যাবে সাকিব আল হাসানের দল। কাল সেই শুভ সূচনা করার পর দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয় জানান সেই চিন্তা বরিশালের নেই। ম্যাচপ্রতি উন্নতিতে নজর দিচ্ছেন তারা, ‘আমরা পজিশন নিয়ে ভাবছি না। প্রতিটি ক্রিকেটারের মধ্যেই এটুকু আছে যে, আমরা আগের দিন থেকে ভালো করতে চাই। কারণ আমি যতই উপরে যাই বা শীর্ষে থাকি না কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কিন্তু শেষের দুটো। তাই আমাদের চেষ্টা থাকবে আমরা এই ভালো করার চেষ্টাকে যত বেশি এগিয়ে নিতে পারি। ওই দুই ম্যাচ পর্যন্ত।’

ম্যাচে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে চতুরঙ্গার জায়গায় পাঠানো হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। জুটি বড় হয়নি, তবে মিরাজ ভালো শুরুই দিয়ে গেছেন ১২ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ২৪ করে। বিজয় ২১ বলে করেছেন ৩০। বরিশালের রান বেড়েছে মিডলঅর্ডারদের ব্যাটে। দুই বলে বাউন্ডারি মেরে মৃত্যুঞ্জয়ের তৃতীয় বলে সাকিব বোল্ড হলেও ইব্রাহীম জাদরান ৪৮, মাহমুদউল্লাহ ২৫ ও ইফতিখার অপরাজিত ৫৭ রান করেন। মাত্র ২৬ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৫৭ করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন ইফতিখার।

জবাবে চট্টগ্রামের হয়ে উসমান খান উড়ন্ত সূচনা এনে দিলেও তা ধরে রাখতে পারেননি বাকিরা। উসমান ১৯ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৩৬ রান করেন। টপঅর্ডারে তিন ব্যাটারের ধীর গতির ব্যাটিং ডুবিয়েছে চট্টগ্রামকে। তাই জিয়াউর রহমানের ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ২৫ বলে ৪৭ রানের লড়াই বৃথা যায়। জিয়া ম্যাচ শেষে সেই আক্ষেপটা করলেন, ‘আমাদের ভালো জুটি হয়নি। শেষদিকে কিন্তু চার ওভারে ১৫ করে রান এসেছে কিন্তু ওই যে মাঝে রান তুলতে পারিনি তাই আর কাভার হয়নি, কারণ রান তো অনেক ২০২। এরকম রানের ম্যাচে শুরু, মাঝে ও শেষে রান করতে হয় কিন্তু আমরা মাঝে পারিনি।’

তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে দুই দলই রান পেয়েছে। চার-ছয়ের ফুলঝুরিতে ম্যাচও উপভোগ্য ছিল। দিন শেষে রানের খেলায় বেশি রান করা দলেরই জয় হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত