মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই শিল্পপার্কে (ওষুধ শিল্পনগরী প্রকল্প) বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের নিরাপত্তার অজুহাতে প্রয়োজন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশে শিল্পপার্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বিচারে গাছ কাটছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। কেটে ফেলা গাছ বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।
গজারিয়ার বাউশিয়া ইউনিয়নের এপিআই শিল্পপার্কে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তার কথা বলে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা হতে পারে আরও গাছ। যদিও কেটে ফেলা গাছের অধিকাংশেরই অবস্থান ছিল বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থেকে বেশকিছুটা দূরে। এপিআই শিল্পপার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকল্প এলাকায় কয়েক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল। কেটে ফেলা গাছগুলো ছিল তারই অংশ। এসব গাছের গুঁড়ি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাউশিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বাউশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সারওয়ার বিপ্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাইরের লোকজন গাছ কাটার এই কাজ করতে আসিনি। স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এই নিষ্ঠুর কাজ করেছে, দ্রুত এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।’
বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান প্রধান বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা এটা। এপিআই শিল্পপার্কে গাছ কাটার খবরটি আমি শুনেছি। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তার অজুহাতে বৃক্ষনিধন!খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এ ব্যাপারে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর গজারিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের সেইফটির (নিরাপত্তা) জন্য আমরা শুধু কয়েকটি গাছ ও কয়েকটি গাছের ডাল কেটেছি। আমরা অপ্রয়োজনে কোনো গাছ কাটিনি।’
প্রয়োজনের বাইরেও গাছ কাটা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাউশিয়া এপিআই শিল্পপার্কের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানামতে বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তার জন্য গাছ কাটা হয়েছে। এর বাইরে যদি অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়ে থাকে তবে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘গাছের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
