দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করছেন বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। ‘যাপিত জীবন’ ও ‘অপরাজিত’র পর তিনি সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন আরেকটি সিনেমায়। থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটির নাম ‘ওয়ান ইলেভেন’। ধুরন্ধর রহস্য রোমাঞ্চকর ইতিহাসকে আতশ কাচের নিচে ফেলতেই স্পষ্ট দেখা মেলে নায়ক, খলনায়ক, পুলিশ, গোয়েন্দা, লেখক, গণমাধ্যম আর কিছু অসমাপ্ত প্রশ্নের ভুলভ্রান্তিতে ভরা উত্তর। এ চলচ্চিত্র সে গল্পও বলে। সিনেমাটির গল্প লিখেছেন হুমায়ুন কবির বিশ্বাস, সংলাপ লিখেছেন মোজাফফর হোসেন আর চিত্রনাট্য সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন গুণী চলচ্চিত্রকার যুগল নূরুল আলম আতিক ও মাতিয়া বানু শুকু। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন কামরুল ইসলাম রিফাত। সিনেমাটি নিয়ে আফজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জেনে-বুঝেই কাজটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। মনে হয়েছে সিনেমাটির গল্প গতানুগতিক নয়। বাকিটা পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। আমার মনে হয়েছে গল্পটি ঠিকঠাক পর্দায় উঠে এলে ভিন্নধর্মী একটি গল্প দেখতে পাবেন দর্শক।’
লম্বা বিরতির পর বড়পর্দার কাজে আগ্রহী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন, ‘আসলে অভিনয় থেকেই একটু দূরে ছিলাম। এখন আবার কাজ করছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে আমার মতো সিনিয়র একজন শিল্পীকে এ প্রজন্মের নির্দেশকরা নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাইছেন। তারা সব জড়তা ভুলে আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন। এটা আমার জন্য দারুণ একটা ব্যাপার। আমিও তাদের সঙ্গে কলাবুরেশন করতে আগ্রহী। কারণ তাদের চিন্তাভাবনায় নতুনত্ব খুঁজে পেয়েছি। একসঙ্গে নতুন কিছু সৃষ্টি করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই সম্প্রতি কয়েকটি সিনেমায় যুক্ত হওয়া।’
আফজালের নতুন সিনেমাগুলোর সবই যে এ প্রজন্মের নির্মাতার সঙ্গে তা কিন্তু নয়। তিনি ‘অপরাজিত’তে কাজ করছেন বর্ষীয়ান নির্মাতা সালাহউদ্দিন জাকীর নির্দেশনায়। এতে তার সহশিল্পী দীপা খন্দকার, তাহমিনা অথৈ প্রমুখ। এ ছাড়া ‘যাপিত জীবন’ ছবিটি করছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পরিচালনায়। এতে তিনি প্রথমবার সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন গুণী অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে। আরও অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা, মৌসুমী হামিদ প্রমুখ।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করেও সম্প্রতি সফলতা পেয়েছেন আফজাল হোসেন। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ গত বছরের অন্যতম আলোচিত কাজ। সম্প্রতি তিনি একটি শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। এর নাম ‘সিটি গোল্ড’। সব মিলিয়ে অভিনয়ে তার ভালোই ব্যস্ততা রয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক লিট ফেস্টে ‘ধরা-বাঁধার বাইরে’ শীর্ষক নারীবিষয়ক সেশনে তিনি প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। তার সঙ্গে সহ-আলোচক ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। সেখানে আফজাল হোসেন শোবিজে নারীদের নানা সংগ্রামের কথার পাশাপাশি পুরুষ শিল্পীর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন নিজের জীবনের পুরনো একটি ঘটনা তুলে ধরার মাধ্যমে, ‘আমি তখন সিনেমার নায়ক। ববিতার সঙ্গে একটি সিনেমায় অভিনয় করছিলাম। একটা দৃশ্যের শ্যুটিং হবে এয়ারপোর্টে। ববিতা এসেছেন শুনে অনেক মানুষ এলো তাকে দেখার জন্য। তাকে নিয়েই সবার মাতামাতি, আমাকে কেউ খেয়ালই করছিল না। অনেক পরে একজন খেয়াল করে জানতে চান, এই ছেলেটা কে? পাশের আরেকজন বলেন নতুন হিরো। তখন তিনি বলে ওঠেন, নতুন হিরো না কামলা! কারণ আমার চেহারা-গঠন তখন কথিত নায়কের মতো ছিল না বলে তার এমন মন্তব্য। সুতরাং ব্যাপারটা হলো আসলে দৃষ্টিভঙ্গির।’
অভিনয়ের বাইরে ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন আফজাল। তিনি জানান, সিনেমার শ্যুটিং ডাবিং সব শেষ। শুধু রঙবিন্যাসের কাজ বাকি। সেটি শেষ করে এ মাসেই ছবিটি সেন্সরে জমা দেবেন। তার ইচ্ছা ছবিটি এ বছরই বড়পর্দায় নিয়ে আসার। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনকাহিনী নিয়ে লেখা আনজীর লিটনের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’। এতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস আহমেদ, সোহানা সাবা প্রমুখ।
